‘আজ রাতেই ইরানে বড় হামলা’, খনিজ তেলের মূল দ্বীপ দখলের চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

‘আজ রাতেই ইরানে বড় হামলা’, খনিজ তেলের মূল দ্বীপ দখলের চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন: ইরানকে ফের একবার নজিরবিহীন ভাষায় চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব কিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার রাতেই ইরানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ সামরিক পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকা—এমনটাই ঘোষণা করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলে পরিচিত ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক বার্তার পর এখনও পর্যন্ত তেহরানের তরফ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, এই ‘খার্গ দ্বীপ’ ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশটির সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের টার্মিনাল ব্যবহার করেই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। ফলে, এই দ্বীপে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সুনামি ডেকে আনতে পারে, তা নিয়ে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের নজর রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটির ওপর।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সামরিক অভিযান চালানো হলেও ইরানের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে কোনো সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বেসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না মার্কিন সেনা। তবে ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর আজ রাতেই বিশ্ববাসী তার প্রথম ঝলক দেখতে পাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে আমেরিকা যদি বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *