‘দলে মমতা ছাড়া কাউকে নেতা মানি না!’ অভিষেক বিতর্কে ‘খামোশ’ করিয়ে হুঙ্কার শত্রুঘ্ন সিনহার

‘দলে মমতা ছাড়া কাউকে নেতা মানি না!’ অভিষেক বিতর্কে ‘খামোশ’ করিয়ে হুঙ্কার শত্রুঘ্ন সিনহার

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন একের পর এক সাংসদ ও বিধায়কের ‘বিদ্রোহী’ তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন, ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শক্ত খুঁটি হয়ে দাঁড়ালেন আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। দলের তাবড় বরিষ্ঠ নেতারা যখন শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তখন ‘বিহারীবাবু’ সাফ জানিয়ে দিলেন—তিনি অতীতেও মমতার সঙ্গে ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।

‘আজ তক বাংলা’-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন সিনহা স্পষ্ট করেন, তিনি কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাগজে সই করেননি এবং এই ধরনের কোনো প্রস্তাবে রাজিও হননি। কোনো বিদ্রোহী নেতা তাঁর সাথে যোগাযোগও করেননি।

‘মমতা ছাড়া আর কাউকে চিনি না’

দলের একাংশের অভিযোগ, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ এবং প্রবীণ নেতাদের প্রতি তাঁর ‘দুর্ব্যবহার’-এর কারণেই এই বিদ্রোহ। এই প্রসঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহা সোজাসুজি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর একমাত্র নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ছাড়া আর কাউকে তিনি নেতা হিসেবে চেনেন না এবং বিশ্বাসও করেন না। তাঁর কথায়, “দলীয় স্তরে আমার যত সরাসরি কথা বা নির্দেশ আদান-প্রদান হয়েছে, সবই মমতার সাথে। যতদিন এই দলে আছি, অন্য কাউকে নেতা বলে স্বীকৃতি দেব না।”

কল্যাণ ও কাকলি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য

সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহ প্রসঙ্গে শত্রুঘ্ন বলেন, “কল্যাণবাবু অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ নেতা। অভিষেকের ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো কারণ থাকতে পারে, কিংবা সম্মান না পাওয়ার কারণেও তিনি অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তবে তিনি মমতার পাশেই আছেন।”

একই সাথে বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের কড়া বার্তা দিয়ে শত্রুঘ্ন বলেন, “যে সাংসদরা দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছেন, তাঁদের নৈতিকতার খাতিরে প্রথমে পদত্যাগ করা উচিত। তারপর নিজেদের পছন্দের যেকোনো দলে যোগ দিক। কিন্তু পদ আগে ছাড়তে হবে।” অন্যদিকে, ইউসুফ পাঠান ও সায়নী ঘোষকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য—হতে পারে তাঁরা কোনো ভয়ে বা চাপে চলে গেছেন।

বিজেপি যোগের জল্পনায় রহস্যময় হাসি

কথোপকথনের সময় শত্রুঘ্ন সিনহাকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে কোনো বিজেপি নেতা তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছেন কি না, তিনি রহস্যময় হেসে সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন। তবে বিজেপির প্রতি নরম সুর বজায় রেখে তিনি বলেন, “ওরাও ভালো মানুষ, আমার বন্ধু। আমি নিজেকে সব দলের প্রিয়পাত্র মনে করি। আমি তো ভারতীয় জনতা পার্টিতেই বড় হয়েছি, সেখানেই রাজনীতি শিখেছি। তাই ওদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে।”

তবে সব জল্পনা উড়িয়ে আসানসোলের সাংসদ শেষে এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অন্য কারও সিদ্ধান্তে তিনি প্রভাবিত নন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আছেন এবং তাঁর প্রজ্ঞার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *