৬ মাস পার, তাও থমকে কাজ! দোকান উচ্ছেদের জটে পুজোর আগে কি খুলবে বেলঘরিয়া ব্রিজ?

কলকাতা: উত্তর শহরতলির অন্যতম লাইফলাইন বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুলের সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ থমকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিরাটি, বেলঘরিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। রেললাইনের উপরের অংশের কাজ প্রায় শেষের পথে হলেও, প্রশাসনিক জটে উড়ালপুলের দু’প্রান্তের বাকি কাজ এখনও শুরুই করা যায়নি। ফলে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগে আদৌ এই ব্রিজ খুলবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
কেন থমকে রয়েছে কাজ?
পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, উড়ালপুলের নীচে থাকা প্রায় ৪৮টি দোকান না সরানো পর্যন্ত বাকি থাকা ১৪টি গার্ডার পরিবর্তনের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এই দোকানগুলি চিহ্নিত করে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কামারহাটি পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চার মাস কেটে গেলেও উচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। সম্প্রতি পুরসভা, মহকুমা প্রশাসন, পূর্ত দফতর ও পুলিশ যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করে দোকানের তালিকা পুরসভার হাতে তুলে দিয়েছে। প্রশাসনিক দাবি, দোকান সরানোর কাজ শেষ হলেই পূর্ত দফতর মাঠে নামবে। তবে বাকি কাজ শেষ করতে আরও অন্তত দু’মাস সময় লাগবে।
দায় কার? শুরু পুরসভা ও পূর্ত দফতরের দড়ি টানাটানি:
এদিকে দোকান সরানো নিয়ে কামারহাটি পুরসভা ও পূর্ত দফতরের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানিয়েছেন, দোকানগুলি পূর্ত দফতরের জমিতে থাকায় উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই। এর পাশাপাশি, যেসব ব্যবসায়ীর দোকান সরানো হবে, তাঁদের বিকল্প রুজি-রুটির ব্যবস্থার দাবিও উঠেছে।
নিত্যদিনের নরকযন্ত্রণা, ট্রেন চলাচলেও প্রভাব:
গত ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দে এই ব্রিজের মেরামতির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেতু বন্ধ থাকায় ২ নম্বর ও ৮ নম্বর রেলগেট এলাকায় প্রতিদিন মাইলের পর মাইল যানজট তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেক সময় রেলগেট এলাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেন চলাচলেও দেরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকা এই ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কিন্তু প্রশাসনিক এই ‘লাল ফিতের ফাঁসে’ কবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে, তা এখনও অনিশ্চিত।