এবার কি মহুয়াও ‘বিদ্রোহী’? ‘রাজনীতিতে আসাম্ভব কিছু নয়’ বলে তোলপাড় ফেলা ইঙ্গিত তৃণমূল সাংসদের

এবার কি মহুয়াও ‘বিদ্রোহী’? ‘রাজনীতিতে অসম্ভব কিছু নয়’ বলে তোলপাড় ফেলা ইঙ্গিত তৃণমূল সাংসদের

কলকাতা: বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের পর এবার কি মহুয়া মৈত্রও পা বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে? কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়ার এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ছাব্বিশের রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। এক সাক্ষাৎকারে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও ‘পিসি-ভাইপো’র একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাসুনিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনীতিতে কোনো কিছুই আসাম্ভব নয়।

বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে দাবি করেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তই দায়ী। দলে মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই এবং প্রার্থী বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও দুর্নীতির মাধ্যমে এককভাবে নেওয়া হয়।

মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র যোগ দিচ্ছেন কিনা, এই প্রশ্নে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ না বললেও জল্পনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন বাসুনিয়া। তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে মহুয়া মৈত্রও মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের সমালোচনা করেছিলেন। তাই ভবিষ্যতে কে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দিল্লিতে আলাদা গ্রুপ গঠনের প্রস্তুতি, সুখেন্দুর পর লাইনে সায়নীও!

তৃণমূলের অন্দরের ফাটল যে কতটা চওড়া হয়েছে, তা বাসুনিয়ার কথাতেই স্পষ্ট। তিনি জানান, সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার দিনই বিদ্রোহী সাংসদরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে এক গোপন বৈঠক করেন। প্রথম দিন সেখানে ১৪ জন সাংসদ উপস্থিত থাকলেও পরবর্তীতে সেই শিবিরে যোগ দিয়েছেন সায়নী ঘোষও।

খুব শীঘ্রই এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সংসদে তৃণমূল থেকে পৃথক একটি ‘স্বতন্ত্র গ্রুপ’ হিসেবে বসার অনুমতি চাইবে। আর এই নতুন গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকতে পারেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা শতাব্দী রায়ের মতো প্রবীণ কোনো নেত্রী।

কীর্তি আজাদকে কড়া জবাব ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ

টাকার বিনিময়ে দলবদল করছেন বিদ্রোহীরা— তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বাসুনিয়া বলেন, “কীর্তি আজাদ বাংলার রাজনীতি বোঝেন না। বাংলায় তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে।” ২০১৯ সালে বিধায়ক থাকাকালীন নিজের এলাকায় আক্রান্ত হয়ে তিন মাস বাড়িছাড়া থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে কোনো সাহায্য পাননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পরও মমতা বা অভিষেকের তরফ থেকে তাঁর মানভঞ্জনের কোনো চেষ্টাই করা হয়নি বলে দাবি করেছেন এই বিদ্রোহী সাংসদ। সব মিলিয়ে, একের পর এক নেতার এই ‘বিদ্রোহী’ মনোভাব যে ঘাসফুল শিবিরের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলে দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *