দিল্লিতে মমতার নাকের ডগায় ‘অপারেশন লোটাস’! ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলো থেকেই কি শেষ হচ্ছে তৃণমূল?

দিল্লিতে মমতার নাকের ডগায় ‘অপারেশন লোটাস’! ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলো থেকেই কি শেষ হচ্ছে তৃণমূল?

নয়া দিল্লি: বঙ্গ রাজনীতিতে এবার ভূমিকম্প! বিধানসভা ভোটে হারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার দিল্লিতে তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙন। আর এই মহানাটকের মূল কেন্দ্রবিন্দু বা ‘এপিসেন্টার’ হয়ে উঠেছে দিল্লির মোতিলাল নেহেরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবন। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, এই বাংলোয় বসেই স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে তৃণমূলের ‘অপারেশন লোটাস’-এর।

ইতিমধ্যেই ঘাসফুল শিবিরের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। যার মধ্যে ৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগও করেছেন। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন খোদ দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর নাকের ডগায় বসে একের পর এক গোপন বৈঠক সেরেছেন দলেরই বিদ্রোহী সাংসদরা।

ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ ও গোপন বৈঠক:

বিজেপির অন্দরে ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত ভূপেন্দ্র যাদব ছিলেন বাংলার নির্বাচনী ইনচার্জ। ফলে বাংলার রাজনীতির নাড়িনক্ষত্র তাঁর চেনা। সূত্রের খবর, তাঁর বাসভবনে প্রথম দফায় ১৪ জন তৃণমূল সাংসদের একটি বৈঠক হয়, যেখানে লোকসভার কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগী সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো হেভিওয়েটদের উপস্থিতি খোদ বিজেপির অন্দরেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবও।

এখানেই শেষ নয়, গত ১০ জুন সায়নী ঘোষ, মালা রায় এবং মিতালি বাগের মতো সাংসদেরাও ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে খবর। প্রায় ১৯ জন লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদ ইতিমধ্যেই সেখানে দরবার করেছেন।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে আড়াআড়ি বিভাজন:

দলের এই চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সাংসদ কীর্তি আজাদ সরাসরি তোপ দেগেছেন ভূপেন্দ্র যাদবের দিকে। তাঁর দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে ও ক্ষমতার লোভ দিয়ে ‘অপারেশন লোটাস’ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের মতো বিদ্রোহীরা সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের দিকে ইঙ্গিত করে দাবি করছেন— ‘আসল তৃণমূল’ কারা, সেটা এবার কমিশনই ঠিক করবে। অর্থাৎ, মমতার হাত থেকে আস্ত দলটাই ছিনিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চলছে।

যদিও এই ঝড়ের মাঝেই প্রতিমা মণ্ডলের মতো সাংসদ দাবি করেছেন, তিনি ‘দিদির সঙ্গেই আছেন’। আর দলের বর্ষীয়ান নেতা মদন মিত্রের আশাবাদী মন্তব্য, “দল যখনই সংকটে পড়েছে, মমতাদি আরও শক্তিশালী হয়ে কামব্যাক করেছেন।” তবে দিল্লির অলিতে-গলিতে কান পাতলে এখন একটাই আওয়াজ— ভূপেন্দ্র যাদবের হাত ধরে লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূলকে ভাঙিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চলেছে এনডিএ, যার ফলে বাংলায় ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ এখন চরম অন্ধকারের মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *