চিকিৎসক মহলে তোলপাড়! তৃণমূল আমলের প্রমোশন প্যানেল বাতিল করল শুভেন্দু সরকার, নেপথ্যে কি বড় দুর্নীতি?

চিকিৎসক মহলে তোলপাড়! তৃণমূল আমলের প্রমোশন প্যানেল বাতিল করল শুভেন্দু সরকার, নেপথ্যে কি বড় দুর্নীতি?

কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। গত মার্চ মাসে শিক্ষক-চিকিৎসকদের পদোন্নতির (Promotion) জন্য নেওয়া সমস্ত ইন্টারভিউ প্যানেল একঝটকায় বাতিল করে দিল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকার। অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর পদের এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের পরই বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের বড়সড় দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের গন্ধ পাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

বুধবার রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা (DME) একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে আগের পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিল ঘোষণা করেন। যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে প্রমোশনের অপেক্ষায় থাকা শত শত শিক্ষক-চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে একাধিক চিকিৎসক সংগঠন।

১৫ জুন থেকে নতুন করে আবেদন শুরু

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুন থেকে পদোন্নতির জন্য নতুন করে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। যে সমস্ত চিকিৎসকরা আগে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন, তাঁদেরও পুনরায় আবেদন করতে হবে।

উঠে আসছে স্বজনপোষণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

সরকারি এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন ‘এনএমও’ (NMO)। সংগঠনের দক্ষিণবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট দাবি করেন, “এই প্যানেল নিয়ে অতীতে প্রচুর স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছিল।”

অন্যদিকে, ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস’-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রেডিওলজি ও অবথ্যালমোলজির আলাদা করে ইন্টারভিউ নিয়ে প্রমোশন ঘোষণা করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি, অবথ্যালমোলজি থেকে প্রমোশন পাওয়া একজন চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।”

তদন্ত ও শাস্তির দাবি

এই ইন্টারভিউ বাতিলের আসল কারণ কী—এর পিছনে কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারি নাকি রাজনৈতিক প্রভাব ছিল, তা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তাকে চিঠি দিয়ে তাঁদের বক্তব্য, পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্য দফতরের যে উচ্চপদস্থ কর্তারা এই অনিয়ম ও স্বজনপোষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *