দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে বড় বদলের পথে রাজ্য সরকার!

বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলিকে বিপুল অঙ্কের সরকারি অনুদান দেওয়ার যে প্রথা বিগত সরকারের আমলে চালু ছিল, তাতে এবার বড়সড় ছেদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্গাপুজোর আর্থিক সহায়তা নিয়ে জনমানসে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে এই বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুদান নীতিতে আর্থিক সংস্কারের ভাবনা
নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অনুদানের বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যাঁদের এই সামান্য সরকারি অর্থের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ারও কোনো আবশ্যকতা নেই। তবে যেসব পুজো কমিটি আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে। পাশাপাশি, বিজেপি সূত্রে খবর, ক্লাবগুলিকে সরাসরি অনুদান দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রথা বন্ধ করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। পুজো কমিটিগুলির জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা গেলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বেশি উপকৃত হবেন, এমনটাই মত দলের একাংশের। যার ফলে চলতি বছর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটিকে গতানুগতিক সরকারি অনুদান না দেওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
জমকালো আয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি
সরকারি অনুদান নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্গাপুজোর জাঁকজমকে কোনো খামতি থাকছে না। বরং ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোকে বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রথম দুর্গাপুজো হওয়ায় উৎসবকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জানা গেছে, শারদোৎসবের দিনগুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর মতো শীর্ষ নেতৃত্বকে কলকাতায় আনার জোরদার চেষ্টা চলছে। এমনকি অষ্টমীর অঞ্জলিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং এ সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার এই শারদোৎসবকে আন্তর্জাতিক স্তরেও এক নতুন মাত্রায় তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য বিজেপি।
মূলত সরকারি কোষাগারের অপচয় রোধ করে সেই অর্থ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে লাগানোর উদ্দেশ্য থেকেই এই নীতিগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। এর ফলে পুজো কমিটিগুলির সরকারি অনুদান নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনই পুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।