ধর্মস্থল গণকবর মামলায় জড়িয়ে গেল প্রকাশ রাজের নাম!

কর্নাটকের চাঞ্চল্যকর ধর্মস্থল মন্দিরের ‘গণকবর’কাণ্ডে এবার নাম জড়াল অভিনেতা প্রকাশ রাজের। এই হাই-প্রোফাইল মামলায় তাঁর নাম আসতেই রাজ্য রাজনীতিসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল দাবি করে অভিনেতা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।
কী রয়েছে পিটিশনে?
গত ১১ জুন কর্নাটক হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন ধর্মস্থল ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত চিন্নায়া। সেই আবেদনেই সরাসরি প্রকাশ রাজের উল্লেখ করা হয়েছে। চিন্নায়ার অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কথামতো বয়ান দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিযুক্তের দাবি, অভিনেতা প্রকাশ রাজ নিজে তাঁর সঙ্গে তামিল ভাষায় কথা বলে এই বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। পিটিশনে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিনেতা নাকি তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে তিনি ২৯ তারিখ এসে তাকে জড়িয়ে ধরবেন। এই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসতেই আইনি ও রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে যায়।
প্রকাশ রাজের প্রতিক্রিয়া ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া জল্পনা ও খবরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশ রাজ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আপাতত শহরের বাইরে রয়েছেন। তবে আর মাত্র দু’দিনের মধ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত প্রশ্নের জবাব দেবেন। পাশাপাশি, ভক্ত ও সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রথমবার এই ধর্মস্থল গণকবর মামলাটি শিরোনামে আসে। মন্দিরের এক প্রাক্তন সাফাই কর্মী দাবি করেন, গত প্রায় দুই দশক ধরে ওই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় শয়ে শয়ে মৃতদেহ জোরপূর্বক কবর দিতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁকে। এই চাঞ্চল্যকর দাবির ভিত্তিতে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু করে। খননকার্য চালিয়ে মাটির নিচ থেকে বহু কঙ্কাল ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়।
মূলত দীর্ঘ দুই দশক ধরে অজ্ঞাতপরিচয় ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের দেহ লোপাট এবং এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের যোগ থাকার অভিযোগ থেকেই এই মামলার সূত্রপাত। এই ঘটনায় মন্দিরকেন্দ্রিক লক্ষ লক্ষ ভক্তের ধর্মীয় ভাবাবেগ ও বিশ্বাস জড়িত রয়েছে। ফলে প্রকাশ রাজের মতো একজন জাতীয় স্তরের তারকার নাম এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আসায় মামলাটি এক নতুন মাত্রা নিয়েছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি আরও জটিল মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।