যুদ্ধ শেষের দাবি ট্রাম্পের, চুক্তির খবর উড়িয়ে দিল ইরান!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিলেও তা মানতে নারাজ তেহরান। ট্রাম্পের দাবি, ইরান আর কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং একটি শান্তি চুক্তি সই হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ইরানের সরকারি পর্যায় থেকে ওয়াশিংটনের এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের বড়সড় ফারাক প্রকাশ্যে এনেছে।
ট্রাম্পের দাবি ও চুক্তির পটভূমি
জর্জিয়ার একটি ভার্চুয়াল র্যালিতে ট্রাম্প জানান, পরমাণু অস্ত্র না বানানোর শর্তে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান হতে চলেছে। এর ফলে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা আপাতত বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত মেটাতে কাতার ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছাড় দেওয়া, পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের অনড় অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
ওয়াশিংটনের এই অতি-আত্মবিশ্বাসী বার্তার উল্টো সুর শোনা গেছে তেহরানে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তারা। মূলত, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া এই চুক্তির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে সামরিক উত্তেজনা ও চলমান নৌ অবরোধের জেরে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।