শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির তৃণমূল বিধায়করা, অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে কী বললেন বায়রন-সাবিনারা?

শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির তৃণমূল বিধায়করা, অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে কী বললেন বায়রন-সাবিনারা?

মালদা সফরে এসে চার জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের এই যৌথ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা গেল বিরোধী শিবিরের একঝাঁক বিধায়ক ও সাংসদকে। তবে এই বৈঠক কেবল প্রশাসনিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি এবং তাঁদের নিজেদের দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ঘটনায় এক বড়সড় রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়েছে।

উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে একসুরে জনপ্রতিনিধিরা

এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে দলীয় ভেদাভেদ ভুলে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস এবং ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বিরোধী বিধায়কদের মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায়। সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন মুখ্যমন্ত্রীকে মালদার মাটিতে আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁরা এলাকার উন্নয়ন চান এবং মুখ্যমন্ত্রী যেন শাসক-বিরোধী ভেদাভেদ না করে সবাইকে নিয়ে চলেন। অন্যদিকে, বায়রন বিশ্বাসও পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে জানান, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি মালদার প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

এই প্রশাসনিক বৈঠকের সমান্তরালে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সই জাল করার মামলায় ইতিমধ্যে তিনবার নোটিশ পাওয়ার পর গতকালই হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে বৈঠকে যোগ দিতে আসা তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্পষ্ট জানান, যিনি এই জালিয়াতি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সঠিক বিচার হওয়া দরকার। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন খগেন মুর্মূ। তাঁর দাবি, মানুষ অনেক আগেই তৃণমূলকে বিদায় দিয়েছে এবং এখন অস্তিত্ব বাঁচাতে তারা কখনও কংগ্রেসের হাত ধরার চেষ্টা করছে।

তৃণমূলের অন্দরে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি একাংশের এই প্রকাশ্য অসন্তোষ এবং আইনি জটিলতাই বিধায়কদের এই ভিন্ন সুরের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে পারে, যা তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *