দলের বিদ্রোহীদের চেয়ে শুভেন্দু অনেক ভালো, বিস্ফোরক দাবি করে তোলপাড় ফেললেন মহুয়া মৈত্র!

দলের বিদ্রোহীদের চেয়ে শুভেন্দু অনেক ভালো, বিস্ফোরক দাবি করে তোলপাড় ফেললেন মহুয়া মৈত্র!

নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যখন বিদ্রোহের সুর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলে থেকে যারা নেতৃত্বের বিরোধিতা করছেন, সেই বিক্ষুব্ধ সাংসদ ও বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। মহুয়ার সাফ দাবি, তৃণমূলের বর্তমান ‘সুবিধাবাদী’ বিদ্রোহীদের চেয়ে শুভেন্দু অধিকারী অনেক বেশি স্বচ্ছ ও নীতিবান ছিলেন।

তৃণমূলের অন্দরে ‘গদ্দার’ সিরিয়াল ও মহুয়ার তোপ

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করে তৃণমূলের একটা বড় অংশ দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছে। লোকসভায় কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যেমন আলাদা ফ্রন্ট তৈরি হচ্ছে, তেমনই বিধানসভাতেও তৈরি হয়েছে পৃথক শিবির। এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, “তৃণমূলে এখন সিরিয়াল চলছে, যার নাম— কিউকি সাংসদ ভি কভি গদ্দার থে।” তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে দলের সাধারণ সম্পাদক তা জেনেশুনেই এই নেতারা তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ-বিধায়ক হয়েছেন। এখন হঠাত করে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা নেহাতই সুবিধাবাদ। সাহস থাকলে দল ছেড়ে তাঁদের অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়া উচিত।

শুভেন্দুর প্রশংসা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

নিজের দলের একাংশকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেও, বিরোধী শিবিরের নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেছেন মহুয়া। তিনি স্পষ্ট জানান, শুভেন্দু অধিকারী অন্তত এদের মতো লুকিয়ে রাজনীতি করেননি। তিনি প্রকাশ্যেই অভিষেকের নেতৃত্ব মানতে চাননি এবং নিয়ম মেনে দল ছেড়ে, ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন। পাঁচ বছর রাজপথে বিরোধী রাজনীতি করার পর আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর পুরনো সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মহুয়া জানান যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান করেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মহুয়া মৈত্রের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল। একদিকে যখন দলের একটি বড় অংশ এনডিএ-কে সমর্থনের পথ খুঁজছে, তখন মহুয়ার এই কড়া অবস্থান বিদ্রোহীদের ওপর নৈতিক চাপ বাড়াবে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ যখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন, তখন মহুয়ার মুখে শুভেন্দুর এই প্রশংসা তৃণমূলের অন্দরে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *