‘আমাকে মানুষ করেছেন’, কল্যাণের কড়া সমালোচনার মুখে অভাবনীয় বিনয় প্রকাশ অভিষেকের!

রাজনীতিতে সব সময় আক্রমণের জবাব পাল্টা আক্রমণে হয় না, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে। দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম কটাক্ষ এবং হুঁশিয়ারির মুখে পড়েও মেজাজ হারালেন না তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং সমালোচনার জবাবে প্রবীণ নেতার প্রতি পরম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছেন তিনি।
তীব্র ক্ষোভ এবং অভিষেকের সংযম
একদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যেই তিনি অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দলের ক্ষতির জন্য তাঁকে দায়ী করেন। এমনকি অভিষেকের রক্ষাকবচের মামলা থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন এই প্রবীণ আইনজীবী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার তাঁর এবং অভিষেকের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। এই প্রবল আক্রমণের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছিল এবং পালটা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিল ওয়াকিবহাল মহল।
কিন্তু ডিজে মামলার তদন্তে সিআইডি নোটিস দিতে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন অভিষেক। চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গির বদলে অত্যন্ত বিনয়ী সুরে তিনি জানান, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন এবং মানুষ করেছেন। তাই তাঁকে দু-চারটে কটূ কথা বলার সম্পূর্ণ অধিকার প্রবীণ এই নেতার রয়েছে। কল্যাণের কোনও কথায় তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই এবং তাঁকে আগামী দিনেও সম্মান করে যাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অভিষেক।
দলের অন্দরে সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। তবে কল্যাণের তীব্র আক্রমণের মুখে অভিষেকের এই অভাবনীয় সংযম দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই পরিণত আচরণ দলের নবীন ও প্রবীণ শিবিরের মধ্যে তৈরি হওয়া ফাটল প্রশমিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রবীণ নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে দলের অন্দরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হলো, তেমনই দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে হাতিয়ার করতে চাওয়া বিরোধী শিবিরকেও কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হলো।