সাতসকালে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে পুলিশের তল্লাশি! রেগে আগুন সাংসদ বললেন, ‘আমি তদন্তকারী সংস্থা নই’

কলকাতা: শনিবার সাতসকালেই চরম উত্তেজনা ছড়াল কালীঘাটে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আচমকাই হানা দিল পুলিশ। শুধু তাই নয়, ভেতরের সদস্যদের ডাকাডাকি করার পর সাড়া না পেয়ে মেন গেটের তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর তাঁরা বেরিয়ে যান। আর এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মেজাজ হারালেন অভিষেক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে রেগে আগুন সাংসদ স্পষ্ট জানান, “আমি তদন্তকারী সংস্থা নই। তদন্তকারী সংস্থাকে জিজ্ঞেস করুন। তারা সার্চ করে গিয়েছে, উত্তর তারাই দেবে। আমি তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধি নই। পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে, যা জানার তাদের থেকেই জানুন।” তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল চরম বিরক্তি ও ক্ষোভ।
কেন এই হঠাৎ তল্লাশি?
জানা যাচ্ছে, শনিবার সকালে শালবনি থানার পুলিশ আধিকারিকরা তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে ছিল কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। সূত্রের খবর, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে খুঁজছে পুলিশ। শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরেই সুমিতের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে এই তল্লাশি চালানো হয়।
ছুটে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিষেকের বাড়িতে পুলিশ ঢোকা এবং তালা ভাঙার খবর দ্রুত পৌঁছায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। খবর পেয়েই তিনি তড়িঘড়ি অভিষেকের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর তিনি বেরিয়ে আসেন।
টানা জেরা ও জোড়া মামলার সাঁড়াশি চাপ
গত কয়েকদিন ধরেই চরম টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন নিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় বৃহস্পতিবারই সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ভবানী ভবনে গিয়ে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সিআইডি-র ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েন তিনি। রাত সাড়ে ১১টায় সেখান থেকে বেরিয়ে সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান অভিষেক।
এই মামলায় আদালত তাঁকে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিলেও বিতর্ক থামেনি। শুক্রবারও নির্বাচনের সময় করা একটি ‘ডিজে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিলেন। আর তার ঠিক পরের দিন সকালেই তালা ভেঙে পুলিশের এই তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।