বকেয়া ডিএ নিয়ে মুখ খুললেন নতুন অর্থমন্ত্রী, নবান্নের দিকে তাকিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীরা!

বকেয়া ডিএ নিয়ে মুখ খুললেন নতুন অর্থমন্ত্রী, নবান্নের দিকে তাকিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীরা!

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুললেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম ডিএ ইস্যুতে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি। তবে সরাসরি কোনো সমাধানের সময়সীমা ঘোষণা না করে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে সাময়িক হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

রাজ্যের আর্থিক সংকট ও সীমিত আয়ের উৎস

রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান বাজেটে একাধিক জটিলতা রয়েছে যা ধাপে ধাপে সমাধান করা প্রয়োজন। জিএসটি আদায়ের ক্ষমতা রাজ্যের হাতে না থাকায় নিজস্ব আয়ের উৎস বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত। প্রধানত মদ ও পেট্রোলজাত পণ্যের শুল্কের ওপর রাজ্যের আয়ের বড় অংশ নির্ভর করছে, যা কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই আর্থিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে রাজ্যের নিজস্ব আয়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

ডিএ ইস্যুতে অনিশ্চয়তা এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

ডিএ মেটানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ না জানালেও অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি কর্মীদের প্রত্যাশা এবং সমস্যার গভীরতা সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে রাতারাতি এই বিশাল আর্থিক বোঝা মেটানো সম্ভব নয় বলে তাঁর মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীরা হতাশ হলেও, তাঁদের আশার আলো দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মী সংগঠন সূত্রে খবর, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে বর্তমান আর্থিক সংকটের মধ্যেও বকেয়া এবং বর্ধিত হারে ডিএ পাওয়ার আশায় নবান্ন ও অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *