বকেয়া ডিএ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, রাজ্যের আর্থিক সংকট মেটাতে তাকিয়ে কেন্দ্রের দিকে

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ইস্যুতে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন রাজ্যের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি ডিএ প্রদান নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে অর্থমন্ত্রীর এই প্রথম প্রতিক্রিয়ায় একদিকে যেমন সমস্যার গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মনে নতুন করে সংশয় ও তৈরি হয়েছে।
সীমিত আয়ের উৎস ও আর্থিক সংকট
রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, রাজ্য বাজেট ঘিরে একাধিক জটিলতা বিদ্যমান। বর্তমানে জিএসটি আদায়ের একক ক্ষমতা রাজ্যের হাতে না থাকায় আয়ের উৎস অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের আয়ের একটি বড় অংশ আসে মূলত মদ ও পেট্রোলজাত পণ্যের শুল্ক থেকে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য খুব একটা সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের ‘ইনকাম বেস’ বা আয়ের ভিত্তি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী, যাতে আগামী দিনে রাজ্যের আর্থিক চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বিপুল আর্থিক বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ডিএ নিয়ে ধোঁয়াশা ও কর্মচারীদের উদ্বেগ
বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো সময়সীমা বা দিনক্ষণ ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি সাফ জানিয়েছেন, একদিনে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে সমস্যাটি ঠিক কী এবং এই বিষয়ে ফাইল কতটা এগিয়েছে, তা তাঁর জানা আছে। ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের যে বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করে নেন। অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা না মেলায় ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ডিএ ইস্যুতে নতুন সরকার ঠিক কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তা এখনো ধোঁয়াশায় আবৃত। ফলে নবান্নের ইতিবাচক বার্তায় আশাবাদী কর্মীরা অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কিছুটা হতাশ হয়েছেন।
অবশ্য এর আগেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর অর্থ দপ্তরের এমন সতর্ক অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত বকেয়া এবং বর্ধিত হারের ডিএ ঠিক কবে নাগাদ অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, সেই উত্তরের আশায় নবান্ন ও অর্থ দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্যের সরকারি কর্মচারী মহল।