পদত্যাগের হিড়িক পুর-পঞ্চায়েতে! বর্ষার মুখে ডেঙ্গির কামড় থেকে রাজ্যকে বাঁচাবে কে?

চুঁচুড়া: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে গণ-পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। আর এর জেরেই বর্ষার শুরুতেই চরম অচলাবস্থার মুখে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা। পদত্যাগ, দলবদল আর জনরোষের ভয়ে স্থানীয় কাউন্সিলার থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সদস্যরা এখন ঘরবন্দি বা নিষ্ক্রিয়। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার মুখে প্রাণঘাতী ডেঙ্গি রুখতে কে নজরদারি চালাবে, তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলা প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য কর্তাদের।
স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, জুনের শুরু থেকেই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলার কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে যায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার লার্ভা খোঁজা, ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো কিংবা জমা জল পরিষ্কারের মতো জরুরি কাজগুলোর তদারকি করেন মূলত স্থানীয় পুর-প্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে এই পুরো নজরদারি ব্যবস্থাটাই এখন শিকেয় উঠেছে।
শহরের পাশাপাশি গ্রামেও থাবা বসাচ্ছে ডেঙ্গি:
বিশেষজ্ঞদের কপালে বাড়তি চিন্তা জোগাচ্ছে গ্রামীণ এলাকা। আগে ডেঙ্গির প্রকোপ মূলত শহরে দেখা গেলেও, গত কয়েক বছর ধরে প্লাস্টিকের দেদার ব্যবহার ও দ্রুত নগরায়নের ফলে গ্রামেও ডেঙ্গির আঁতুড়ঘর তৈরি হচ্ছে। ফলে এবার পঞ্চায়েত এলাকাগুলোতে বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি সেই কাজকে অনেকটাই থমকে দিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর বর্ষার আগে সুডা (SUDA)-র উদ্যোগে যে বড়সড় প্রস্তুতি বৈঠক হয়, তা-ও এবার এখনও হয়ে ওঠেনি।
ভরসা এখন সরকারি অফিসাররাই:
জনপ্রতিনিধিরা ময়দানে না থাকলেও হাল ছাড়তে নারাজ প্রশাসনের আধিকারিকরা। রিষড়া পুরসভার নোডাল অফিসার অসিতাভ গঙ্গ্যোপাধ্যায় জানান, “আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সারা বছরই কাজ করেন। জনপ্রতিনিধিরা না থাকলেও এক্সিকিউটিভ অফিসাররা গোটা বিষয়টি তদারকি করছেন। ফলে বড় কোনো সমস্যা হবে না।” একই সুর শ্রীরামপুর পুরসভার নোডাল অফিসার শৌভিক পাণ্ডার গলাতেও। তিনি জানান, পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে ইতিমধ্যে বৈঠক হয়েছে এবং বড় বড় বহুতলগুলোতে বাসিন্দাদের সচেতন করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।