সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ হাইভোল্টেজ বৈঠক! অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে ‘থ্রি-ডি’ নীতিতেই অনড় বিএসএফ

নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভারত যে তার ঘোষিত ‘থ্রি-ডি’ (3D) ফর্মুলা থেকে একচুলও নড়বে না, তা বিএসএফ ও বিজিবি-র শীর্ষস্তরের বৈঠকেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই থ্রি-ডি নীতি হলো— অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে চিহ্নিত করা (Detect), ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া (Delete) এবং তারপর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (Deport)।
সীমান্তের এই জলঘোলা পরিস্থিতির মাঝেই গত ৮ জুন নয়াদিল্লিতে চারদিনের মেগা বৈঠকে বসেছিল দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF-BGB)। প্রথা ভেঙে এবার কোনো যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করা না হলেও, বিজিবি-র তরফে জারি করা একটি বিবৃতিতে বৈঠকের ভেতরের নির্যাস সামনে এসেছে।
‘পুশ ব্যাক’ নিয়ে অনড় দিল্লি, কী জানাল বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (BGB)-এর দাবি, এই সীমান্ত সম্মেলনে মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় ছিল ‘পুশ ব্যাক’ (যা বাংলাদেশের কাছে ‘পুশ ইন’)। বিজিবি জানিয়েছে, বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও নির্ধারিত নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে দুই পক্ষই রাজি হয়েছে।
তবে একাধিক সূত্রের দাবি, বিএসএফের তরফে ঢাকাকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— ভারতে বেআইনিভাবে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশিদের নিজেদের দেশে ফেরত নিতেই হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেই এই অনুপ্রবেশ-রোধ প্রক্রিয়া কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।
আলোচনায় মাদক ও চোরাচালান রোখার রণকৌশল:
অনুপ্রবেশের পাশাপাশি এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অস্ত্র ও সোনা পাচার রোধ, সন্ত্রাসদমন এবং কাঁটাতারের ফেন্সিং নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। মাদক পাচার রুখতে দুই বাহিনীই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই সাথে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সমস্যাগুলো যৌথ আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিএসএফ ও বিজিবি-র এই বৈঠককে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী’ বলেই মনে করছে দুই দেশের কূটনৈতিক মহল।