কোডিংয়ের দিন শেষ নাকি জুনিয়র ডেভেলপারদের ক্যারিয়ারে বড় রূপান্তর

কোডিংয়ের দিন শেষ নাকি জুনিয়র ডেভেলপারদের ক্যারিয়ারে বড় রূপান্তর

ভারতের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা ও সম্ভাবনা দুই-ই তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইটি কো ম্পা নিগুলো ইতিমধ্যেই রুটিন কোডিং, সফটওয়্যার টেস্টিং এবং বাগ ফিক্সিংয়ের মতো কাজগুলো মানুষের পরিবর্তে এআই এজেন্ট দিয়ে করানোর পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের মধ্যে এন্ট্রি লেভেলের প্রায় ৩০ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে আভাস দেওয়া হচ্ছে। মূলত জিপিটি-৪, ক্লড কিংবা কপাইলটের মতো উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টার কোডিং কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, সেখানে জুনিয়র ডেভেলপারদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক উদ্যোক্তা।

প্রথাগত কোডারের রূপান্তর ও বড় তিন আইটি সংস্থার পদক্ষেপ

নাম প্রকাশ না করলেও টাটা, ইনফোসিস এবং উইপ্রোর মতো ভারতের শীর্ষস্থানীয় তিন তথ্য-প্রযুক্তি জায়ান্ট এই নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ কোড লেখা, ইউনিট টেস্ট তৈরি করা এবং পুরোনো কোড ডিবাগ বা ডকুমেন্টেশনের কাজগুলো এখন থেকে সামলাবে এআই এজেন্ট। এর ফলে একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মূলত পাঁচ থেকে ছয়টি এআই এজেন্টের তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করবেন। মানুষের মূল দায়িত্ব এখন সংকুচিত হয়ে আসবে সমস্যা অনুধাবন, আর্কিটেকচার ডিজাইন, ক্লায়েন্ট ডিলিং এবং এআই-এর তৈরি করা কোডের নিরাপত্তা যাচাইকরণের মধ্যে।

চাকরি হারানোর শঙ্কা বনাম নতুন স্কিলের উত্থান

এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে যারা কেবল সাধারণ কোড টাইপ করেন, তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাহিদা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বরং এর ধরন বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি করা প্রায় ১০ শতাংশ অটো-কোডে নিরাপত্তার ঘাটতি বা সিকিউরিটি বাগ থাকে, যা সংশোধনের জন্য মানুষের মেধার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া ২০২৬-২০২৭ সালের মধ্যে এন্ট্রি লেভেলের প্রথাগত চাকরি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমলেও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার, এআই ট্রেইনার এবং এলএলএম অপসের (LLM Ops) মতো সম্পূর্ণ নতুন কিছু পদের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে যারা এআই-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কাজের গতি ১০ গুণ বাড়িয়ে নিতে পারবেন, বাজারে তাদের চাহিদা ও মূল্যায়ন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *