প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর চোখরাঙানি, ভারতে খরার আশঙ্কা প্রবল!

ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির সূচনা নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সতর্কতা অনুযায়ী, আসন্ন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার মরসুমে এই জলবায়ুগত পরিবর্তন আরও শক্তিশালী আকার ধারণ করতে পারে। সমুদ্রের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলেও এর প্রভাব স্পষ্ট, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এল নিনো এখন সম্পূর্ণ সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
এল নিনোর কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
জুন মাসে মধ্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়ার অন্যতম প্রধান সূচক ‘নিনো ৩.৪’-এর গড় মান শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচের বিশাল অংশেও তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে উষ্ণ জলরাশি আরও ওপরে উঠে এসে এই পরিস্থিতিকে একটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনোয় পরিণত করতে পারে।
ভারতের বর্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব ও আশার আলো
প্রাকৃতিক এই জলবায়ুগত প্রক্রিয়ার কারণে ঐতিহাসিকভাবেই ভারতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়া ও খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে এল নিনোই ভারতের মৌসুমি বায়ু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কারণ নয়। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে ‘নিরপেক্ষ’ ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD) বিরাজ করছে। তবে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) পূর্বাভাস দিয়েছে, জুলাইয়ের দিকে একটি ‘ইতিবাচক’ আইওডি গড়ে উঠতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতে সুপার এল নিনোর কারণে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য খরা ও কম বৃষ্টিপাতের বিরূপ প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।