‘কম মাইনের মেয়ে বিয়ে করব না!’ বার্ষিক ১.৬ কোটির পাত্রের ৩ শর্তে তোলপাড় নেটদুনিয়া

নতুন দিল্লি: দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি (IIT) ও আইআইএম (IIM) থেকে পড়াশোনা শেষ করে বছরে ১.৬ কোটি টাকার বিশাল প্যাকেজ পান ৩৪ বছর বয়সী এক যুবক। কিন্তু ম্যাট্রিমনি সাইটে একের পর এক বিয়ের সম্বন্ধ বাতিল করে এখন ইন্টারনেটে তুমুল চর্চায় তিনি।
আসলে, বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে ৩টি অদ্ভুত শর্ত দিয়েছেন ওই যুবক। তাঁর সাফ কথা— যে সমস্ত মেয়েরা বছরে ৬ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা আয় করেন এবং বিয়ের পরও চাকরি বজায় রাখতে চান, তাঁদের তিনি কোনোভাবেই বিয়ে করবেন না।
কী সেই ৩টি শর্ত ও যুক্তি?
ওই যুবকের দাবি, পাত্রীর আয়ও তাঁর আয়ের কাছাকাছি হতে হবে, যাতে দুজনে মিলে ঘরের কাজ ও সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারেন। আর তা যদি না হয়, তবে মেয়েটিকে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ‘হাউসওয়াইফ’ বা গৃহবধূ হতে হবে। যুবকের যুক্তি, এত কম টাকা মাইনে পেয়ে তাঁরা সংসারের আর্থিক দিকে যেমন বড় অবদান রাখতে পারবেন না, তেমনই অফিসের কাজের চাপে সন্তানদেরও সঠিক সময় দিতে পারবেন না।
নেটপাড়ায় দ্বিমত, উঠল ‘দ্বিমুখী নীতি’র প্রশ্ন:
টুইটারে (বর্তমানে এক্স) ‘কবীর মেনন’ নামে এক নেটিজেন এই ঘটনাটি শেয়ার করে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন— “লাখ টাকা রোজগেরে মেয়ে যখন কোটিপতি পাত্র চায়, তখন কেউ ভুল ধরে না। তাহলে কোটিপতি ছেলে কম মাইনের মেয়েকে বিয়ে করতে না চাইলে কেন এত বিতর্ক?” এই পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
একদল নেটিজেন যুবকের এই বাস্তববাদী চিন্তাকে ১০০ শতাংশ সমর্থন করে জানিয়েছেন, বর্তমান বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে তাঁর সিদ্ধান্ত একদম ঠিক। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি— বিয়ে কোনো ‘বিজনেস কনট্রাক্ট’ বা ব্যবসার চুক্তি নয়। আজ যে মেয়ের মাইনে কম, ভবিষ্যতেই সে নিজের কেরিয়ারে অনেক উঁচুতে পৌঁছাতে পারে। তাই শুধু বর্তমান মাইনে দেখে সম্পর্ক বাতিল করা সংকীর্ণ মানসিকতারই পরিচয়।