দিল্লিতে এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, মাসিক সারচার্জে সায় সরকারের!

দিল্লির বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। দিল্লি ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (DERC) শহরের তিনটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কো ম্পা নিকে ‘পাওয়ার পারচেজ অ্যাডজাস্টমেন্ট চার্জ’ বা পিপিএসি (PPAC) বাবদ অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অনুমতি দিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিএসইএস রাজধানী পাওয়ার লিমিটেড, বিএসইএস যমুনা পাওয়ার লিমিটেড এবং টাটা পাওয়ার দিল্লি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এই অতিরিক্ত সারচার্জ তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে।
মাসিক ভিত্তিতে পিপিএসি ও তার কারণ
জ্বালানির দাম, বিদ্যুৎ কেনার দর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচে যে পরিবর্তন আসে, তার ভারসাম্য বজায় রাখতেই মূলত এই পিপিএসি বা সারচার্জ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। আগে এই সমন্বয় প্রতি তিন মাসে একবার ধার্য করা হলেও, এই প্রথমবার দিল্লিতে তা মাসিক ভিত্তিতে কার্যকর করা হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিতরণ কো ম্পা নিগুলোর প্রস্তাবিত হারের চেয়ে কম হারেই অনুমোদন দিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এপ্রিলের জন্য বিএসইএস রাজধানী পাওয়ার লিমিটেডের জন্য ১৭.৯৪ শতাংশ, বিএসইএস যমুনা পাওয়ার লিমিটেডের জন্য ১৭.৪৩ শতাংশ এবং টাটা পাওয়ার দিল্লি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের জন্য ১৬ শতাংশ মাশুল ধার্য করা হয়েছে।
গ্রাহকদের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে?
এই সংশোধিত মাশুলের ফলে সব গ্রাহকের উপর সমান প্রভাব পড়বে না। দিল্লি সরকারের তরফ থেকে যে সমস্ত গ্রাহক ২০০ থেকে ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর ভর্তুকি পান, তাঁদের ওপর নতুন করে কোনও আর্থিক বোঝা চাপবে না। কারণ এই ভর্তুকি সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে যুক্ত, চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে নয়। তবে যাঁরা ভর্তুকির আওতার বাইরে রয়েছেন বা যাঁদের বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই বেশি, তাঁদের বিলে টান পড়তে চলেছে। কো ম্পা নি ও ব্যবহারভেদে এই অতিরিক্ত সারচার্জ ৭ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। পাশাপাশি, নতুন প্রবর্তিত ‘রেগুলেশন এফ’-এর আওতায় কোনও নির্দিষ্ট মাসের অনাদায়ী অর্থ পরবর্তী মাসগুলোর বিলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আদায় করার নিয়মও চালু করা হয়েছে।