রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এক ফ্রেমে মুনমুন-রুদ্রনীল, টলিউডের প্রিমিয়ারে ধরা পড়ল বিরল সৌজন্যের ছবি!

রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এক ফ্রেমে মুনমুন-রুদ্রনীল, টলিউডের প্রিমিয়ারে ধরা পড়ল বিরল সৌজন্যের ছবি!

টলিউডের অন্দরে রাজনীতির রঙ যতই স্পষ্ট হোক না কেন, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক স্নেহ ও শিল্পসত্তা যে সমস্ত বিভেদের ঊর্ধ্বে, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের নতুন ছবি ‘আবার হাওয়া বদল’। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শিবপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক হওয়ার পর, সিনেমা হলের আলোয় নিজের এই কাজকে নিয়ে আসতে সফল হয়েছেন তিনি। আর সেই ছবির প্রিমিয়ারেই তৈরি হলো এক রাজনৈতিক সৌজন্যের আবহ। ছবিতে অভিনয় করেছেন রাইমা সেন, আর মেয়ের ছবি দেখতে এসে হাজির হয়েছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী ও তৃণমূলের প্রাক্তন তারকা সাংসদ মুনমুন সেন। সেখানেই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের প্রতি মুনমুনের অপত্য স্নেহ ও প্রশংসা টলিউড ছাড়িয়ে রাজনৈতিক মহলেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিল্পের আঙিনায় উধাও রাজনৈতিক বিভেদ

ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়ে মুনমুন সেন সরাসরি মজেছেন অভিনেতা রুদ্রনীলের অভিনয়ের জাদুতে। ছবির নায়িকা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের জুড়িদার রাইমা হলেও, মুনমুনের সমস্ত নজর কেড়ে নিয়েছেন রুদ্রনীল। অভিনেতাকে পাশে দাঁড় করিয়ে প্রবীণ অভিনেত্রী প্রকাশ্যেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, রুদ্রনীল একজন দুর্দান্ত অভিনেতা যিনি অভিনয়ের সময় তাঁর পুরো শরীর ব্যবহার করেন। কোনো দৃশ্যে মুখ দেখা না গেলেও হাতের কাঁপনে কিংবা গানের দৃশ্যে গলার শিরা ফুটে ওঠার নিখুঁত অভিনয়ের দক্ষতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর পরপরই প্রকাশ্য ক্যামেরার সামনে পুত্রসম রুদ্রনীলের গাল টিপে স্নেহের চুম্বন এঁকে দেন মুনমুন সেন।

সৌজন্যের আবহে পরিবর্তনের হাওয়া

২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ থাকা মুনমুন সেনের এই আচরণ স্বাভাবিকভাবেই নেটদুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে বর্তমান বঙ্গ রাজনীতিতে এক দলের নেতার সঙ্গে অন্য দলের নেতার দূরত্ব প্রায় অলঙ্ঘ্য, সেখানে এই স্নেহপূর্ণ মুহূর্ত একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিনোদন জগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময় দলীয় রাজনীতির সমীকরণ মেনে চলে না। ভিন্ন আদর্শ থাকা সত্ত্বেও শিল্পীদের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্নেহ আগামী দিনে টলিউডের কর্মসংস্কৃতি ও সামগ্রিক রাজনৈতিক সৌজন্যের পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *