আরও আইনি জটে অভিষেক, বিস্ফোরক অভিযোগ ব্যবসায়ীর

নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরও বড়সড় আইনি জটলায় জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় সিআইডি নোটিসের পর, এবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এক প্রখ্যাত ব্যবসায়ীর করা এই বিস্ফোরক অভিযোগের জেরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের আইনি অস্বস্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
জনমানসে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ
গত শুক্রবার শিলিগুড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার সিংঘল শিলিগুড়ি সাইবার থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন বিভিন্ন জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরণের বক্তব্য পেশ করেছেন, তা অত্যন্ত উস্কানিমূলক। তাঁর এই সমস্ত বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, ওই বিতর্কিত বক্তব্যগুলির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমানসে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে অভিযোগকারীর দাবি।
স্ক্যানারের নীচে নন্দীগ্রাম থেকে আরামবাগের সভা
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী তাঁর পত্রে অভিষেকের কয়েকটি নির্দিষ্ট জনসভা ও রোড শোর উল্লেখ করে সেগুলি পুলিশের সাইবার সেলকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। মূলত তিনটি জনসভাকে এই অভিযোগে নিশানা করা হয়েছে:
- ২৫ মার্চ, ২০২৬: নন্দীগ্রামের হাইপ্রোফাইল নির্বাচনী সভা।
- ২৭ এপ্রিল, ২০২৬: মহেশতলার জনসভা এবং মেগা রোড শো।
- আরামবাগের সমাবেশ: আরামবাগে করা নির্বাচনী জনসভা।
আইনি যাচাইয়ের দাবি পুলিশের কাছে
ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার সিংঘল পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, উল্লেখিত সভাগুলির সমস্ত ভিডিও ফুটেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত কনটেন্ট ডিজিটাল ল্যাবে খতিয়ে দেখা হোক। ওই বক্তব্যগুলি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act) বা অন্য কোনও প্রযোজ্য আইনের আওতায় কোনও অপরাধমূলক ধারার মধ্যে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তিনি।
অভিযোগকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনও পূর্বনির্ধারিত শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি করছেন না, বরং অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই নাগরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই নতুন ডায়েরির ভিত্তিতে সাইবার থানার পুলিশ আগামী দিনে কী আইনি পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই কড়া নজর রাখছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।