লকআপে থার্ড ডিগ্রি দিলেই যাবে চাকরি! প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় ‘মেডিক্যাল টেস্টের’ গুঁতোয় কাঁপছে পুলিশ

লকআপে থার্ড ডিগ্রি দিলেই যাবে চাকরি! প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় ‘মেডিক্যাল টেস্টের’ গুঁতোয় কাঁপছে পুলিশ

নয়া দিল্লি: জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় ডেকে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা বা লকআপে পুরে মারধর করার দিন এবার শেষ। পুলিশের এই ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করতে দেশের আইনে রয়েছে অত্যন্ত কড়া নিয়ম, যা অনেক সাধারণ মানুষই জানেন না।

ভারতে চালু হওয়া নতুন আইন ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS) এবং আগের ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড’ (CrPC) অনুযায়ী— সঠিক নথিপত্র বা অ্যারেস্ট মেমো ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে থানায় আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে থানায় আনা হলে, তৎক্ষণাৎ তাঁর সমস্ত বিবরণ থানার ‘জেনারেল ডায়েরি’ (GD)-তে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

সবচেয়ে বড় বিষয়, কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর (যাতায়াতের সময়টুকু বাদ দিয়ে) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতেই হবে। এই একটি নিয়ম পুলিশকে সবচেয়ে বেশি চাপে রাখে। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে পুলিশের অত্যাচার থেকে বাঁচাতে আইনে আরও কিছু রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে:

  • অ্যারেস্ট মেমো: থানায় নিয়ে আসার সাথে সাথেই ওই ব্যক্তির নাম, তারিখ এবং গ্রেপ্তারের সঠিক সময় ‘অ্যারেস্ট মেমো’-তে লিখতে হবে। সেখানে একজন সাক্ষী এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
  • পরিবারকে নোটিশ: কোনও ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পরিবার বা বন্ধুদের সরকারিভাবে সেই খবর জানাতে হবে।
  • আইনজীবীর সাহায্য: হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিজের পছন্দের আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করার এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

প্রতি ৪৮ ঘণ্টার সেই ‘টুইস্ট’:

আইন অনুযায়ী, পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তির প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত একবার বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Medical Examination) করাতে হবে। লকআপে পুলিশ মারধর করেছে কি না, তা ধরে ফেলার আসল টুইস্ট এটাই! যদি মেডিক্যাল রিপোর্টে শরীরে কোনও নতুন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের চাকরি যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *