এক ছাদের তলায় সব পরিষেবা দিতে সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনের জনকল্যাণ শিবির

এক ছাদের তলায় সব পরিষেবা দিতে সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনের জনকল্যাণ শিবির

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে এবং দ্রুত পৌঁছে দিতে এক বড়সড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শুরু হচ্ছে ৩ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ‘জন কল্যাণ শিবির’। রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্বতন সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির আদলেই এই নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল একই ছাদের তলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া, সচেতনতা বাড়ানো এবং সরাসরি আমজনতার থেকে আবেদন গ্রহণ করা। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত জেলা ও ব্লক স্তরে এই বিশেষ শিবিরগুলির আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আর্থিক সহায়তা বা সামাজিক সুরক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা এখনও সরকারি সুবিধা পাননি, তাঁরা সরাসরি এই শিবিরে এসে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই এতদিন বঞ্চিত ছিলেন, সেই খামতি দূর করতে প্রতিটি শিবিরে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এর ফলে আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজ অনেক দ্রুত সম্পন্ন হবে। তিন দিনব্যাপী এই মেগা শিবিরে স্বাস্থ্যবিমা ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের আবেদন জমা নেওয়া হবে। এছাড়া শিবিরে আধার এনরোলমেন্ট ও সিডিংয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে (সিএএ) আবেদন করার সুযোগও থাকছে।

একই ছাদ নিচে গুচ্ছ প্রকল্পের সুবিধা

এই শিবিরগুলিতে সাধারণ মানুষ ভূমি, শ্রম, কৃষি ও নারী কল্যাণের মতো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। জমির রেকর্ড মিউটেশন, রেকর্ডের সংশোধন ও পাট্টার আবেদনের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য থাকছে ই-শ্রম, পিএম শ্রম যোগী মানধন এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ স্কিম। নারী ও শিশু কল্যাণের ক্ষেত্রে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, কন্যাশ্রী এবং অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পে আবেদন করা যাবে। কৃষকদের জন্য পিএম কিসান সম্মান নিধি, কিসান ক্রেডিট কার্ড এবং মৎস্যজীবীদের জন্য থাকছে পিএম-মৎস্য কিসান সমৃদ্ধি সহ-যোজনা। আর্থিক ও খাদ্য সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, পিএম গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা এবং পিএম উজ্জ্বলা যোজনার আবেদনও নেওয়া হবে এখানে।

তৎপর প্রশাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রস্তুতি ও পরিচালনার তদারকির জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সিনিয়র আইএএস (IAS) আধিকারিকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই নিজ নিজ জেলায় পৌঁছে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। সোম ও মঙ্গলবার আধিকারিকরা সর্বাধিক সংখ্যক শিবির পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনে বুধবারও এই তদারকি জারি থাকবে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে সরকারি কাজের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা ও লালফিতার ফাঁশ অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে, অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে আমজনতার দূরত্ব কমে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *