অবশেষে মিটল মার্কিন-ইরান সংঘাত, ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ঘোষণায় স্বস্তিতে বিশ্ব!

অবশেষে মিটল মার্কিন-ইরান সংঘাত, ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ঘোষণায় স্বস্তিতে বিশ্ব!

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনা পেরিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়া রণকৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার উন্মুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বিশ্বের সমস্ত জাহাজকে তাদের ইঞ্জিন চালু করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ সচল করার ঘোষণা দেন।

সংঘাতের নেপথ্য কারণ ও চুক্তির রূপরেখা

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে হওয়া শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলির ওপর কঠোর নৌ-অবরোধের ঘোষণা করে। এই দীর্ঘ অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশই লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে উভয় পক্ষ এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করবে। তবে চুক্তিটি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরও শোনা গেছে, যার ফলে চুক্তির বিস্তারিত ও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রুট, কারণ সারা বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশনার ফলে হরমুজ প্রণালী টোল-মুক্তভাবে খুলে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। পণ্য পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে স্থবির হয়ে পড়া বাণিজ্য ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজার আবার দ্রুত গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *