দিল্লির দরবারে মরিয়া কালীঘাট, স্পিকারের দ্বারে মমতার দুই দূত!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সম্ভাব্য ফাটল ও দলবদলের জল্পনার মাঝেই নতুন মোড় নিল দিল্লির রাজনীতি। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আচমকা দেখা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই বিশ্বস্ত দূত, রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ। দিল্লিতে যখন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকের খবর চাউর হয়েছে, ঠিক তখনই তড়িঘড়ি স্পিকারের বাসভবনে কালীঘাটের প্রতিনিধিদের এই হাজিরা জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় ‘খেলা’ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্পিকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি জরুরি চিঠি। চিঠির মূল বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট— লোকসভার ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি অবিভাজ্য দল হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে এবং দলছুট কোনো গোষ্ঠীকে আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না।
সাংবিধানিক রক্ষাকবচের খোঁজে তৃণমূল
স্পিকারের বাসভবন থেকে বের হয়ে সাগরিকা ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি সম্পূর্ণ অবিভাজ্য দল। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী সংসদের ভেতরে দল ভেঙে কোনো আলাদা গোষ্ঠী গঠন করা যায় না এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ হলো দলত্যাগী বা বিদ্রোহী সাংসদদের আইনি ও সাংবিধানিক উপায়ে আটকে দেওয়া। দল যখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তখন দল ও প্রতীককে পরিত্যাগ করার এই প্রবণতাকে রাজনৈতিক ও নৈতিক দুর্বলতা বলেই আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিদ্রোহের আঁচ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই নাটকীয় তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি গোপন বৈঠক। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, সোমবারই বিদ্রোহী গোষ্ঠী স্পিকারের কাছে দল ভাঙার আবেদন জানাতে পারে। সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে তার আগেই স্পিকারের ওপর চাপ তৈরি করতে ময়দানে নেমে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই ঘটনার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। যদি বড় কোনো অংশ দলত্যাগ করে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তবে সংসদে তৃণমূলের শক্তি হ্রাস পাবে এবং তা বাংলার শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা হবে। অন্যদিকে, স্পিকার যদি তৃণমূলের আবেদনে সাড়া দিয়ে দলত্যাগ বিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করেন, তবে বিদ্রোহীদের সদস্যপদ খারিজের সম্ভাবনা তৈরি হবে। আপাতত স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে দিল্লির এই রাজনৈতিক নাটকের ভবিষ্যৎ।