শিবির বদলের জল্পনার মাঝেই কল্যাণের বিস্ফোরক দাবি, ‘মমতা দির কাছে গাড়ি চেয়েছিলেন…’

তৃণমূলের কঠিন সময়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদের এই ‘দলবদল’ জল্পনার মধ্যেই দলের অভ্যন্তর থেকে একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান সামনে আসছে। বিশেষ করে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ শাসক শিবিরের ভেতরের ক্ষোভকে প্রকাশ্য এনেছে, যা দলের বর্তমান সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দলবদলের নেপথ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ইডি মামলার যোগসূত্র
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আকস্মিক দিল্লি যাত্রা এবং বিজেপি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে উপস্থিতির নেপথ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ইঙ্গিত দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে রোজভ্যালি মামলায় যখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জেল হেফাজতে ছিলেন, তখন দল তাঁর জন্য বিপুল অর্থ খরচ করে আইনি সহায়তা দিয়েছিল। কল্যাণের দাবি, ইডি-র মামলা থেকে অব্যাহতি পেতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির শরণাপন্ন হয়ে থাকতে পারেন। এর পাশাপাশি একটি নতুন গাড়ি না পাওয়া সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক ক্ষোভের কথাও সামনে এসেছে। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব দিল্লির ১৭ বছরের পুরনো গাড়িটি পরিবর্তন করে নতুন গাড়ি দিতে আসাম্মতি জানানোয় সাংসদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনাকে তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের কর্মী ও মমতা-পন্থীরা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য এবং নেত্রীর অতিরিক্ত প্রশ্রয় নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে আসছে। অতীতে উত্তর কলকাতার যোগ্য নেতাদের দলত্যাগ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরদের অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়ার খেসারত এখন দলকে দিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন শীর্ষ নেতারা। এই ভাঙনের ফলে লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি যেমন কমবে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও এর একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, সংসদে বিল পাস করানোর সুবিধার্থে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করার যে কৌশল নিয়েছে, সুদীপের এই পদক্ষেপ তা আরও তরান্বিত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।