রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রতিবাদের আবহেই আমেরিকায় পা রাখল ইরান!

দীর্ঘ টালবাহানা এবং কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমেরিকার মাটিতে পা রাখল ইরান ফুটবল দল। আগামী মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে তারা। তবে এই সফরের নেপথ্যে কেবল ফুটবল নয়, জড়িয়ে রয়েছে গভীর ভূরাজনীতি। একদিকে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আবহ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে ঘনীভূত হচ্ছে প্রতিবাদের মেঘ। সব মিলিয়ে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ইরানি শিবিরের চারপাশ।
ভিসা বিভ্রাট ও প্রস্তুতির ঘাটতি
বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে পৌঁছানোর আগেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ইরানের প্রস্তুতি। মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে ভিসা পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে বাকি দলগুলোর তুলনায় অনেক পরে অনুশীলন শুরু করতে পেরেছে তারা। প্রথমে আমেরিকায় তাদের প্রস্তুতি শিবির হওয়ার কথা থাকলেও কূটনৈতিক সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে তা সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় মেক্সিকোতে। ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়েই জানিয়েছেন, বারবার শিবির বদল এবং আমেরিকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় ফুটবলারদের ওপর বাড়তি মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মাঠের বাইরের এই প্রতিকূলতাকে সরিয়ে রেখে ফুটবলাররা এখন শুধুমাত্র মাঠের লড়াইয়ে মনোনিবেশ করতে চাইছেন।
মাঠের বাইরে বিক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইরানি দলের আগমনকে কেন্দ্র করে ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন প্রবাসী ইরানি সমর্থকদের একটি অংশ। এর পাশাপাশি ইরানি সমর্থকদের টিকিট বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা মাঠের বাইরের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভের আশঙ্কায় মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকায় আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। দলের তারকা ফুটবলার মেহদি তারেমি এবং কোচ আমির স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গ্যালারির উত্তপ্ত পরিস্থিতি ম্যাচের পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।