কেরালা থেকে এসে বাংলায় মর্মান্তিক পরিণতি! কুলতলীতে গণপিটুনিতে প্রাণ গেল সন্দীপের

স্থানীয় বাসিন্দা হীরাল দাসের আমন্ত্রণে কেরালা থেকে কুলতলীতে বেড়াতে এসেছিলেন সন্দীপ। মঙ্গলবার সকালে বাজার থেকে ফেরার পথে তিনি পথ হারিয়ে একটি অপরিচিত পাড়ায় ঢুকে পড়েন। বাংলা ভাষা না জানা এবং রাস্তা হারানোর কারণে তাঁর চোখেমুখে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তাকেই অপরাধের লক্ষণ বলে ভুল করে বসে কিছু মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে চোর সন্দেহে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় সন্দীপ নিজের কন্নড় ভাষায় অনুনয় করে প্রাণভিক্ষা চাইছেন। কিন্তু উন্মত্ত জনতার গণরোষের কাছে তাঁর সেই আর্তনাদ পৌঁছাতে পারেনি, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রভাব
ঘটনার নৃশংসতা প্রকাশ্যে আসার পর কুলতলী থানার পুলিশ ভাইরাল ভিডিও দেখে ইতিমধ্যেই ৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এই ঘটনা সমাজের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিকে সামনে এনেছে। প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার নিরন্তর প্রচার সত্ত্বেও আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা যে জনমানসে সেভাবে রেখাপাত করতে পারেনি, তা এই গণপিটুনির ঘটনাতেই স্পষ্ট। নিছক ভাষা না জানা এবং গুজবের বশবর্তী হয়ে ভিনরাজ্যের এক অতিথিকে পিটিয়ে মারার এই ঘটনা রাজ্যের আতিথেয়তার ভাবমূর্তিতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। একইসঙ্গে এই দলবদ্ধ হিংস্রতা এবং গণ-হিস্টিরিয়া প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানবিক বোধ দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে, যা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ধারণাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং সমাজের ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।