মমতার হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূল? ২০ বিদ্রোহী সাংসদের চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে দিল্লির বুকে কাঁপছে ঘাসফুল শিবির!

মমতার হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূল? ২০ বিদ্রোহী সাংসদের চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপে দিল্লির বুকে কাঁপছে ঘাসফুল শিবির!

কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন ভূমিকম্প! তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই কি এবার হাতছাড়া হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? লোকসভার অন্দরে ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের এককাট্টা হওয়া এবং ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জল্পনা ছড়াতেই এখন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় শুরু হয়েছে। খোদ স্পিকার ওম বিড়লার হাতে চিঠি তুলে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। প্রশ্ন উঠছে, আইনের অঙ্কে কি সত্যিই মমতার থেকে দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন বিদ্রোহীরা?

দলত্যাগ আইনের কঠিন অঙ্ক:

সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, আগে কোনও দলের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে তাকে ‘ভাঙন’ ধরা হতো। কিন্তু ২০০৩ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, দলত্যাগ এড়াতে এবং নিজেদের সাংসদ পদ বাঁচাতে গেলে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) জনপ্রতিনিধির সমর্থন প্রয়োজন।

বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮। সেই অঙ্কে দল বাঁচাতে গেলে প্রয়োজন ১৯ জন সাংসদ। কিন্তু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। এমনকি সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী, আরও ২ জন যোগ দিলে এই সংখ্যাটা দাঁড়াবে ২২-এ। ফলে সংখ্যার জোরে বিদ্রোহীরা আইনত একদম সুরক্ষিত জায়গায় দাঁড়িয়ে।

দলের নাম ও প্রতীক কি হাতছাড়া হবে?

আইনজীবীদের মতে, সাংসদ পদ বাঁচানো আর দলের নাম-প্রতীক নিজের দখলে রাখা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এর আগে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বা এনসিপি-র ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও ঠিক সেই আশঙ্কাই তৈরি হচ্ছে। কোনও দল ভেঙে গেলে আসল উত্তরাধিকারী কে, তা ঠিক করে নির্বাচন কমিশন।

বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লিতে সংখ্যার জোরে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করলেও, বাংলায় মূল সংগঠনের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কতটা, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। ফলে লোকসভার এই বিদ্রোহের পর আগামী দিনে তৃণমূলের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই মেগা লড়াই এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দরজায় গড়াতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *