বিচ্ছেদ মানতে নারাজ প্রেমিক, ঘনিষ্ঠ ছবি ভাইরালের হুমকিতে চরম পরিণতি!

বিচ্ছেদ মানতে নারাজ প্রেমিক, ঘনিষ্ঠ ছবি ভাইরালের হুমকিতে চরম পরিণতি!

নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকায় এক চরম হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মনোমালিন্যের জেরে প্রেমিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এক কলেজ ছাত্রী। কিন্তু সেই বিচ্ছেদ মানতে অস্বীকার করে প্রাক্তন প্রেমিক লাগাতার তাঁর ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁসের হুমকি দিতে শুরু করে। এই ভয়ংকর মানসিক চাপ ও ব্ল্যাকমেলের জেরে আতঙ্কে শেষমেশ নিজের ঘরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ওই তরুণী। সোমবার সকালে শান্তিপুর থানার হরিপুর এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিচ্ছেদ ও ব্ল্যাকমেলের ভয়ংকর পরিণতি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ছাত্রীর নাম সন্ধিয়া দেবনাথ (১৮)। তিনি নদিয়ার একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বাবা পেশায় একজন টোটোচালক। প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালেও তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল ৭টা নাগাদ আচমকাই বাড়ি থেকে জরুরি ফোন পেয়ে দ্রুত ফিরে আসেন তিনি। বাড়ি ফিরে ঘরের ভেতর মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

মোবাইল খুলতেই সামনে এলো হুমকির ছড়াছড়ি

সংবাদ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতার পরিবারের দাবি, উদ্ধারের সময় ওই ছাত্রীর দেহের ঠিক পাশেই পড়েছিল তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা ফোনটি খুলতেই স্তম্ভিত হয়ে যান। দেখা যায়:

  • টানা ব্ল্যাকমেল: ফোনের ইনবক্সে পাশের এলাকারই এক যুবকের পাঠানো একাধিক হুমকি মেসেজ ভর্তি ছিল।
  • ছবি ফাঁসের হুমকি: সম্পর্ক বজায় না রাখলে ওই ছাত্রীর বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ও ব্যক্তিগত মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার স্পষ্ট হুমকি দিচ্ছিল ওই যুবক।

মেয়ের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে টোটোচালক বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মেয়ের সঙ্গে কারও কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, আমরা আগে জানতাম না। আজ সবটা জানতে পারলাম। ক্রমাগত মানসিক চাপ ও এই নোংরা ব্ল্যাকমেলের কারণেই আমার মেয়ে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”

শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় ইতিমধ্যেই একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার বাবা। দোষীর কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ ও শোকগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *