আপাতত জেলমুক্তি নয়! পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে আরও বিপদ বাড়ল সুজিত বসুর

আপাতত জেলমুক্তি নয়! পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে আরও বিপদ বাড়ল সুজিত বসুর

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জেলমুক্তি এখনই হচ্ছে না। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর হলো না, উলটে আগামী দিনে তাঁর আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আপত্তির জেরে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সুজিতবাবুর অন্তর্বর্তী জামিনের আর্জি খারিজ করে ইডি-কে পাল্টা যুক্তি পেশের সময় দিয়েছেন।

সিংভির জোরদার সওয়াল ও আদালতের নির্দেশ

সোমবার সুজিত বসুর জামিন মামলার শুনানিতে তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। ইডি-র গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে তিনি বলেন:

  • দীর্ঘ তদন্তের সময়সীমা: এটি ২০২৩ সালের মামলা। প্রায় সাড়ে তিন বছর সুজিত বসুকে কোনও তদন্তে ডাকেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা।
  • জনপ্রতিনিধির ভূমিকা: মক্কেল একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছেন।
  • আকস্মিক গ্রেপ্তারি: ২০২৬ সালের মে মাসে হঠাৎ দু’বার তলব করে গত ১১ মে সুজিতবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা অত্যন্ত রহস্যজনক।

পাল্টা জবাবে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী মামলা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি পেশের জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় চান। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ইডি-কে আগামী ২৯ জুনের মধ্যে পাল্টা যুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে আগামী ১ জুলাই দুপুর দুটোয়।

পুরনিয়োগ কেলেঙ্কারি ও সুজিতের গ্রেপ্তারি

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ও অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন সুজিত বসু। গত এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে গোটা ভোটপর্বের মধ্যে একাধিকবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাজিরার নোটিস পান তিনি। সেই সময় নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আদালতের রক্ষাকবচ নিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। তবে ভোট মিটতেই ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলে গত ১১ মে দীর্ঘ জেরার পর প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারীদের মূল অভিযোগগুলি হলো:

  • বেআইনি সুপারিশ: দমদম পুরসভায় শতাধিকের বেশি চাকরিপ্রার্থীর নাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী।
  • মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন: এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ইডির দাবি।

এই আর্থিক লেনদেনের শিকড়ে পৌঁছাতে এবং দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাতেনাতে পেতে বর্তমানে সুজিত বসুর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক নথি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *