মেসি কাণ্ডে আদালতের নির্দেশ অমান্য! ফের পুলিশের হাজিরা এড়ালেন অরূপ বিশ্বাস

আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও ‘মেসি কাণ্ডে’ পুলিশের তলব এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পক্ষ থেকে তাঁকে তৃতীয় নোটিস পাঠিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজিরা দেওয়ার চরম সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার বেলা ১২টায় সেই সময়সীমা শেষ হলেও বিকেল পেরিয়ে গেলেও থানার মুখোমুখি হননি তিনি। এই নিয়ে মেসি কাণ্ডে পর পর তিনবার হাজিরা এড়ালেন প্রাক্তন মন্ত্রী, যা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠছে।
হাইকোর্টের ভর্ৎসনা ও পুলিশের ডেডলাইন মিস
মেসি কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে আইনি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তবে রক্ষাকবচ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। গোটা ঘটনায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনাও করেন বিচারপতি।
এরই প্রেক্ষিতে গত শনিবার বেলা ১২টা নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে তৃতীয় নোটিস পাঠায় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। সোমবার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি থানায় আসেননি। বর্তমানে প্রাক্তন মন্ত্রী ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা নিয়ে এক বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ে নামছেন শতদ্রু, জুঁই বিশ্বাসের জেরার দাবি
আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অরূপ বিশ্বাসের এই গরহাজিরা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মেসির ‘গোট’ ইভেন্টের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান:
- ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন — হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরেও অরূপ বিশ্বাস হাজিরা দিচ্ছেন না। কেন তিনি বারবার আইন এড়াচ্ছেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ওঁর এই রক্ষাকবচের বিরোধিতা করে আমরা ইতিমধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছি।
- পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ — উনি ভাবছেন হয়তো এভাবে তদন্ত এড়িয়ে বেঁচে যাবেন, কিন্তু তা হবে না। এই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে জুঁই বিশ্বাসকেও যাতে পুলিশ ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তার জন্য আমরা আইনি পথে হাঁটছি।
‘বাঙালি ফুটবল প্রেমীদের কাছে লজ্জার দিন’, তোপ ক্রীড়ামন্ত্রীর
মেসি কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর এই ভূমিকাকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ইন্দ্রনীল বাবু সাফ জানান, “মেসি কাণ্ডে মাঠে চূড়ান্ত অরাজকতা তৈরি করা হয়েছিল। মাঠে উপস্থিত হয়ে খোদ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে অত্যন্ত অসভ্য আচরণ করেছিলেন। বাংলার এবং বাঙালি ফুটবল প্রেমীদের কাছে ওই দিনটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল।” প্রাক্তন মন্ত্রীর এই লাগাতার হাজিরা এড়ানোর মানসিকতা তাঁর আইনি সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।