জাল লটারি চক্রের পর্দাফাঁস, ১০ লাখ নগদ উদ্ধার করে গ্রেফতার মূলচক্রী!

জাল লটারি চক্রের পর্দাফাঁস, ১০ লাখ নগদ উদ্ধার করে গ্রেফতার মূলচক্রী!

পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানা এলাকায় লোভনীয় অফারের টোপ দিয়ে রমরমিয়ে চলছিল জাল লটারির কারবার। অবশেষে সেই চক্রের মূল হোতা বা ডিস্ট্রিবিউটরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার রাতে নিতুড়িয়ার আমডাঙা গ্রামে অভিযুক্তের বাড়িতে আচমকা হানা দিয়ে নগদ ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। লটারির চটকদার ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব খোয়ানোর লাগাতার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই বড়সড় সাফল্য পেল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

লোভনীয় অফারের আড়ালে প্রতারণা, যেভাবে জালে জড়াল চক্রের মাথা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত লটারি ব্যবসায়ীর নাম শক্তি যাদব। তিনি নিতুড়িয়া থানার অন্তর্গত আমডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে ওই এলাকায় জাল বা ভুয়ো লটারি টিকিট বিক্রি এবং ডিস্ট্রিবিউশনের মারাত্মক অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে তিনি লটারির টিকিটে বিভিন্ন চটকদার ও আকর্ষণীয় অফারের হাতছানি দিতেন।

তদন্তের মূল সূত্রগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • খুচরো বিক্রেতাদের গ্রেফতারি: জাল লটারি বিক্রির এই চক্রটিকে ধরতে বেশ কিছুদিন ধরেই জাল গুটিয়ে আনছিল পুলিশ। প্রায় দুই মাস আগে এই কারবারের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জন খুচরো লটারি বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
  • পলাতক মূলচক্রী: সেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ এই চক্রের প্রধান ডিস্ট্রিবিউটর শক্তি যাদবের নাম জানতে পারে। নিজের নাম জড়ানোর বিষয়টি টের পেয়েই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন শক্তি।
  • রবিবার রাতের গোপন অভিযান: শক্তি যাদব লুকিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন, গোপন সূত্রে এমন খবর পাওয়া মাত্রই রবিবার রাতে তাঁর আমডাঙার বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয় নিতুড়িয়া থানার পুলিশ বাহিনী। সেখানে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল।

উদ্ধার হওয়া বিপুল টাকার মেলেনি বৈধ নথি, তদন্তে পুলিশ সুপার

এই চক্রের পর্দাফাঁস ও বিপুল নগদ উদ্ধার প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, “ধৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি বড় অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মুদ্রার সপক্ষে শক্তি যাদব কোনও বৈধ নথিপত্র বা আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি। ওই ব্যক্তি মূলত জাল লটারির ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন। প্রাথমিক তদন্তে আমাদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া পুরো টাকাই জাল লটারি বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত।”

পুলিশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃত শক্তি যাদবের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং জাল লটারি চক্র চালানোর সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চক্রের জাল আর কতদূর বিস্তৃত, এর পেছনে কোনও বড় আন্তঃরাজ্য লটারি সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না এবং লটারির টিকিটগুলো কোথায় ছাপা হতো, তা বিস্তারিত জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *