বিশ্বসেরা আইটি সেক্টর থাকার পরও কেন ভারতের নিজস্ব চ্যাটজিপিটি নেই? জানালেন Infosys কর্তা

বিশ্বসেরা আইটি সেক্টর থাকার পরও কেন ভারতের নিজস্ব চ্যাটজিপিটি নেই? জানালেন Infosys কর্তা

ভারতের আইটি সেক্টর কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজার এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্ভিস প্রোভাইডার। লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্তের কর্মসংস্থানের এই মূল ভিত্তিটি মূলত আউটসোর্সিং বা পরিষেবা খাতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং মার্কিন রফতানি-নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকার কারণে বিদেশি অ্যাডভান্সড এআই মডেলের অ্যাক্সেস সীমিত হওয়ায় নতুন এক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইটি পরিষেবা দেওয়া দেশটিতে কেন চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র মতো বিশ্বমানের জেনারেটিভ এআই মডেল তৈরি করা গেল না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

সার্ভিস মডেলের সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘমেয়াদি ফান্ডের অভাব

ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস গোপালাকৃষ্ণনের মতে, ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির শক্তি মূলত পরিষেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যে নিহিত। ফলে ভারতীয় সংস্থাকে ওপেনএআই (OpenAI) বা অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর মতো প্রোডাক্ট বেসড কো ম্পা নির সঙ্গে তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক এআই মডেল তৈরির জন্য যে বিপুল কম্পিউটিং পরিকাঠামো এবং হাজার হাজার কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা ভারতের বাজারে পাওয়া কঠিন। যেখানে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রোপিকের পেছনে মাইক্রোসফট বা আমাজনের মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্টদের আর্থিক ব্যাকআপ রয়েছে, সেখানে ভারতে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ডিংয়ের অভাব স্পষ্ট।

তাছাড়া, ভারতের বড় আইটি সংস্থাগুলি মূলত সার্ভিস বেসড মডেলে চলে এবং শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে তাদের প্রতি কোয়ার্টারে নিয়মিত মুনাফা দেখাতে হয়। এআই মডেল তৈরিতে প্রচুর সময় ও অনিশ্চিত বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, যা সাময়িকভাবে কো ম্পা নিকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এন্ড প্রোডাক্টটি শেষ পর্যন্ত লাভজনক হবে কি না, তার কোনো গ্যারান্টি না থাকায় শেয়ার বাজারে ধস নামার ভয়ে কোনো সংস্থাই এই বিপুল ঝুঁকি নিতে রাজী নয়।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব

ভারতে আইটি সেক্টরের সঙ্গে সরাসরি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে রয়েছে। উচ্চ বেতনের এই খাতের ওপর ভিত্তি করে দেশের রিয়েল এস্টেট, পরিবহণ, রিটেল ব্যবসা এবং হোটেল শিল্পের মতো পরোক্ষ খাতের আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। নিজস্ব উন্নত এআই মডেল না থাকায় এবং বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে মার্কিন রফতানি নিয়মের সামান্য পরিবর্তনেও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে নিজস্ব মডেল তৈরির ঝুঁকি নেওয়া মানে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, যা ভারতের বর্তমান বাজার কাঠামোর পক্ষে কার্যত আসাম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *