মমতার বাড়ির সামনে কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম! পরিকল্পিত হামলার অভিযোগে এফআইআর দায়ের

কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে প্রকাশ্য রাস্তায় তৃণমূল নেতা ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় আচমকাই কালো জামা পরা চন্দন নামের এক যুবক অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। এই ঘটনায় অল্পের জন্য কুণাল ঘোষের বাঁ চোখ রক্ষা পায়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যেই ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ (এফআইআর) দায়ের করেছেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা।
নিরাপত্তায় গাফিলতির বিস্ফোরক অভিযোগ
এই ঘটনাকে নিছক ‘জনরোষ’ বলে মানতে নারাজ কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত গুন্ডামি এবং মস্তানি। এর পাশাপাশি তিনি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জেড-ক্যাটাগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত যুবক এর আগে সিআইডি তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের সাক্ষী হিসেবে প্রবেশ করেছিল এবং সিজার লিস্টে তার সইও রয়েছে। এই সূত্র ধরে কুণাল ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ওই বাড়িকে ঘিরে বড়সড় হামলার রেইকি করা হয়ে থাকতে পারে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে নিরাপদ নন।
ধারাবাহিক ডিম-হামলা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিযুক্ত যুবক চন্দন নিজেকে স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, কুণাল ঘোষের অতীত কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক ‘ভুল’-এর জবাব দিতেই তিনি এই ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধাননগরের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের মতো শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ‘ডিম-অ্যাটাক’ হয়েছে। হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক ডিম ছোড়ার প্রবণতা শাসকদলের জন্য ক্রমশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা একদিকে যেমন হাই-প্রোফাইল বলয়ের পুলিশি নিরাপত্তার ফাঁকফোকর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, তেমনই শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাধারণ বা সুপরিকল্পিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা-সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।