‘আসল তৃণমূল আমরাই, জুলাইতেই জোড়াফুল চিহ্নের দাবিতে হাইকোর্টে যাচ্ছি!’ সুদীপের মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

‘আসল তৃণমূল আমরাই, জুলাইতেই জোড়াফুল চিহ্নের দাবিতে হাইকোর্টে যাচ্ছি!’ সুদীপের মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

কলকাতা: অনামী দল এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিলেও তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের দাবি ছাড়ছেন না দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। বরং আগামী জুলাই মাসেই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তাঁরা। বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম শীর্ষনেতা তথা উত্তর কলকাতার প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক দাবিতে এখন তোলপাড় রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

রবিবার সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার কথা জানান, যা গোটা দেশের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেয়। আইন মেনে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জট এড়াতেই লোকসভায় আলাদা ব্লক না তৈরি করে, নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত এই দলটিকে তাঁরা বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছিল।

তবে অভিজ্ঞ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া মানে এই নয় যে তাঁরা জোড়াফুলের দাবি ছেড়ে দিয়েছেন। সংসদের অধিবেশন শুরু হলেই আগামী ২০ জুলাইয়ের পর তাঁরা আইনি লড়াইয়ে নামছেন।

আইনি কৌশল ফাঁস করলেন সুদীপ:

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই আমাদের আপাতত একটা নথিভুক্ত দলের ছাতার তলায় আসতে হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ নিয়ে আলাদা হতে গেলে কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া জরুরি ছিল। স্পিকার ইতিমধ্যেই আমাদের আলাদা ঘরও বরাদ্দ করেছেন।”

আগামী ২০ জুলাই সংসদ চালু হলে নিজেদের রণকৌশল কেমন হবে, তাও খোলসা করেছেন তিনি। সুদীপের কথায়, “সংসদ খুললে তৃণমূলের বাকি ৮ জন সাংসদও নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করবেন। কিন্তু আমাদের মুখ্যসচেতক স্পিকারকে জানাবেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ আমাদের দিকেই আছেন। এরপরই আমরা দিল্লির বড় আইনজীবীদের নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাবো এবং জোড়াফুল প্রতীকের ওপর আমাদের অধিকার দাবি করব।”

এদিকে এনসিপিআই নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত হলেও সেটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয়। ফলে অন্য একটি দলে যোগ দিয়ে কীভাবে তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকের দাবি জানাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর এটুকু স্পষ্ট যে, জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়া রুখতে এবং তা নিজেদের দখলে রাখতে অদূর ভবিষ্যতে এক দীর্ঘমেয়াদী আইনি যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *