জমির দালালি করতে গিয়ে ফাদ! বায়ুসেনা জওয়ানের স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ ও জোর করে ধর্মান্তর, গ্রেফতার ২

নাগপুর: জমির ব্যবসার অছিলায় ফাঁদ পেতে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) এক জওয়ানের স্ত্রীকে গণধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের এক শিউরে ওঠা ঘটনা সামনে এল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। এই ঘটনায় সোনেগাঁও থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম আয়াজ তাজ মাদারে এবং আমিন শেখ। ঘটনার মূল পান্ডা মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা হযরত মাওলানা নামের এক তান্ত্রিক বা মৌলবি বর্তমানে পলাতক, তার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, তোলাবাজি, জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা এবং মহারাষ্ট্রের কুসংস্কার ও কালো জাদু প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা রুজু করেছে।
সহপাঠীর ওপর ভরসা করাই কাল হলো!
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা বছর ২৪-এর এক বিবাহিত তরুণী, যিনি সম্পত্তি কেনাবেচার (রিয়েল এস্টেট) ব্যবসা করেন। তাঁর স্বামী ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত এবং কর্মসূত্রে অন্য শহরে ছিলেন। গত বছরের (২০২৫) ফেব্রুয়ারি মাসে তরুণীর পুরোনো সহপাঠী আয়াজ জমি কেনার নাম করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর ব্যবসার অছিলায় তরুণীকে ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোল্ড ড্রিঙ্কসের সঙ্গে কড়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচৈতন্য করে ধর্ষণ করে আয়াজ। শুধু তাই নয়, অচৈতন্য অবস্থায় তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয়।
৩ লক্ষ টাকা লুঠ ও লাগাতার ব্ল্যাকমেল
পরবর্তীকালে ওই ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে লাগাতার ব্ল্যাকমেল ও যৌন হেনস্থা করা হতে থাকে। তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত।
ভিডিও ভাইরাল: জোর করে ওড়ানো হলো কলমা!
ঘটনাটি কেবল যৌন শোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চরম চাপ দেওয়া শুরু হয়। সম্প্রতি একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তকে জোরপূর্বক ওই হিন্দু গৃহবধূকে দিয়ে ‘কলমা’ পাঠ করাতে এবং তাঁর গায়ে ফুঁ দিতে দেখা গেছে।
অভিযোগ, গত ৩১ মে অভিযুক্ত আয়াজ ওই তরুণীকে নাগপুরের কালমেশ্বর এলাকায় নিয়ে গিয়ে আমিন শেখ ও হযরত মাওলানা নামে আরও দুজনের সঙ্গে আলাপ করায়। তারা তিনজন মিলে তরুণীকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্মান্তকরণের কিছু ধর্মীয় আচার পালন করায়। সেখানেও তরুণীকে ফের গণধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
স্বামী বাড়ি ফিরতেই প্রকাশ্যে এল সত্য
চরম আতঙ্ক ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে নির্যাতিতা তরুণী দীর্ঘদিন এই অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করছিলেন। কিন্তু দিন তিনেক আগে তাঁর স্বামী ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরলে, স্বামীর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। এরপরই দম্পতি সোনেগাঁও থানার দ্বারস্থ হন।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে দুজনকে গ্রেফতার করে। আদালত ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিও, নির্যাতিতার ব্যাংক লেনদেনের নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল চ্যাট খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।