‘পার্টির কথা এখন বলা যাবে না!’ শুভেন্দুর অনুষ্ঠানে এসে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় এড়ালেন মমতার ভাতৃবধূ কাজরী

কলকাতা: এ যেন উলটপুরাণ! তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিদ্রোহের মাঝেই এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারেও কি ভাঙনের ছায়া? সোমবার কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে এসে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিতে গিয়ে কার্যত থমকে গেলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের স্ত্রী তথা কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে তাঁর সাফ কথা, “পার্টির কথা এখন বলা যাবে না!”
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোমবার কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে এসেছিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের আগে শহরে ‘স্বচ্ছতা প্রকল্প’-এর মহাপরিকল্পনা নিয়েছে নতুন সরকার। সেই সাফাই অভিযানের সূচনা করতেই এদিন পুরসভায় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই সরকারি অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে এসেছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস কুমার এবং কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘মুখ্যমন্ত্রীর সম্পূর্ণ সহযোগিতা চাই’
সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা চাইছি। যতদিন কাউন্সিলর আছি, ততদিন যেন কাজ করতে কোনও অসুবিধা না হয়।”
দলের ছন্নছাড়া দশা নিয়ে প্রশ্ন করতেই এড়ালেন পরিচয়:
কয়েক সপ্তাহ আগে ফিরহাদ হাকিমের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা এবং একের পর এক বিধায়ক-সাংসদদের বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার জেরে দল কি ছন্নছাড়া? এই প্রশ্নের উত্তরে কাজরী দাবি করেন, “এমন কোনও ব্যাপার নেই, এখনও কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।”
কিন্তু এর পরেই যখন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, তখনই সুর বদল করেন মমতার ভাতৃবধূ। নিজেকে তৃণমূল কাউন্সিলর হিসেবে পরিচয় না দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সহযোগিতার প্রার্থী, কলকাতা পুরসভার একজন কাউন্সিলর। সেই কারণেই আজকের অনুষ্ঠানে আসা। তবে পার্টির কথা এখন বলা যাবে না!”
একদিকে যখন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভায় আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন, অন্যদিকে দিল্লিতেও ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’য় যোগ দিয়েছেন— ঠিক তখনই খোদ কালীঘাটের অন্দরের সদস্য কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেন তিনি নিজেকে সোজাসুজি তৃণমূলের কাউন্সিলর বলতে চাইলেন না, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে।