সায়নী আউট, যুব তৃণমূলের রাশ এবার ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতার হাতে! জানুন কে এই অর্ণব

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনে এক বিরাট রদবদল ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর যে পদের দায়িত্ব সামলেছিলেন সায়নী ঘোষ, এবার সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুব তৃণমূলের শীর্ষপদে আনা হলো অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরে সায়নী নাম লেখানোর পর, দল তাঁর ডানা ছেঁটে এই গুরুদায়িত্ব তুলে দিল অর্ণবের হাতে। আর এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— কে এই অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়? তাঁর আসল পরিচয়ই বা কী?
তৃণমূলের অন্দরে অর্ণব নতুন নাম নন, বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক মহলে তিনি মূলত ‘পাপা’ নামেই বেশি পরিচিত। তবে রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন জগতের সঙ্গেও তাঁর গভীর সংযোগ রয়েছে। সায়নী ঘোষের মতোই অর্ণবও ছোটপর্দায় অভিনয় জগতের একজন চেনা মুখ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন টেলিভিশনে। শুধু অভিনয় নয়, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর মতো সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
পারিবারিক সূত্রে মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অর্ণব:
অর্ণবের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে রয়েছে তাঁর হেভিওয়েট পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড। তাঁর দিদি সোমা চক্রবর্তী কলকাতা পুরনিগমের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর। অন্যদিকে, তাঁর জামাইবাবু হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, যিনি দলের কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সিআইডি যখন কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে যায়, তখন বুক চিতিয়ে প্রথম বাধা দিয়েছিলেন এই শুভাশিস চক্রবর্তীই। আর তাঁরই শ্যালক হলেন অর্ণব।
রাজনীতিতে যুব সংগঠন বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সায়নীর বিদায়ের পর দল এক্কেবারে অনুগত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবারের সদস্যের ওপরই ভরসা রাখল। এখন দেখার, ছোটপর্দার এই জনপ্রিয় অভিনেতা আগামী দিনে যুব সংগঠনকে কতটা শক্তিশালী ও চাঙ্গা করে তুলতে পারেন।