কাল সিজিও-তে অভিষেকের ছায়াসঙ্গী, আজই ২০২২-এর আত্মহত্যা মামলায় আটক মইদুল!

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই কি একের পর এক পুরনো ফাইলের জট খুলতে শুরু করল পুলিশ? এবার প্রশাসনের নজরে এলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম। ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় তাঁকে আটক করেছে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ।
সূত্রের খবর, বাইকে করে যাওয়ার সময় হটুগঞ্জ এলাকা থেকে মইদুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই মুহূর্তে তাঁকে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
অভিষেকের ছায়াসঙ্গী থেকে পুলিশের জালে:
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিগত কয়েকদিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর পাশেই দেখা গেছে মইদুলকে। সোমবারই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ, সেখানেও হাজির ছিলেন এই শিক্ষক নেতা। এমনকি কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতেও তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আর তার ঠিক পরদিনই মইদুলের এই আকস্মিক আটকে শোরগোল পড়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে।
বাম আমল থেকে ক্ষমতার অলিন্দে উত্থান:
ডায়মন্ড হারবারের গুরুদাস নগরের বাসিন্দা মইদুল ইসলাম রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে সিপিএমের সমর্থক ছিলেন। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি শিবির বদল করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হওয়ার পর মইদুলের রাজনৈতিক উত্থান হয় উল্কা গতিতে। সরাসরি পেয়ে যান তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতির মতো বড় পদ।
পুরনো ফাইল খুলতেই বিপত্তি:
ক্ষমতার দাপটের পাশাপাশি মইদুলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছিল পুলিশের কাছে। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। সম্প্রতি রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলের পর পুরনো সমস্ত অভিযোগের ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। আর তাতেই উঠে আসে ২০২২ সালের ওই আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি।
প্রশাসনের দাবি, আইন মেনেই তদন্তের স্বার্থে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মইদুলের ঘনিষ্ঠ মহল এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। অভিষেকের ঘনিষ্ঠ নেতার এই পরিণতিতে আগামী দিনে জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।