এবার মল্লিকপুর স্টেশনে চলল বুলডোজার, উচ্ছেদ রুখতে সামনে বসে মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ!

এবার মল্লিকপুর স্টেশনে চলল বুলডোজার, উচ্ছেদ রুখতে সামনে বসে মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ!

রাজ্যে নতুন প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যে হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম কিংবা যাদবপুরের পর এবার হকার উচ্ছেদের বড়সড় ও মারমুখী ছবি সামনে এল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার মল্লিকপুর স্টেশনে। সোমবার মধ্যরাতে স্টেশন চত্বর এবং প্ল্যাটফর্মকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে বুলডোজার নিয়ে অভিযানে নামে রেল কর্তৃপক্ষ। এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে মাঝরাতেই মল্লিকপুর স্টেশন চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হকার ও স্থানীয় মহিলারা সরাসরি চলন্ত বুলডোজারের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

মধ্যরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আরপিএফের যৌথ অভিযান

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার গভীর রাতে মল্লিকপুর স্টেশন এলাকা হকারমুক্ত করার মেগা প্রক্রিয়া শুরু হয়। রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্টেশন চত্বরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিযানের মূল দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • যৌথ বাহিনী মোতায়েন: উচ্ছেদ চলাকালীন যে কোনও ধরণের বড়সড় সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে স্টেশন চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছিল আরপিএফ (RPF), কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বারুইপুর থানার এক বিশাল পুলিশ বাহিনী।
  • কাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া: রেলের বুলডোজার দিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকা একাধিক বেআইনি দোকান যেমন রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়, তেমনই স্টেশনের বাইরের মূল রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী বাণিজ্যিক কাঠামো ও শেড ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

বুলডোজার রুখতে মহিলাদের প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনের দাবি

হঠাৎ করে মধ্যরাতে রেলের এই বিশাল বাহিনী নিয়ে দোকান ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে হকার ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্টেশনে এসে জড়ো হন। উচ্ছেদ রুখতে এবং নিজেদের রুজি-রুটি বাঁচাতে হকার পরিবারের মহিলারা অত্যন্ত মরিয়া হয়ে ওঠেন।

আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ এবং বর্তমান পরিস্থিতি:

  • বুলডোজারের সামনে ধর্না: রেলের এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে বেশ কয়েকজন মহিলা জীবন বাজি রেখে সরাসরি চলমান বুলডোজারের সামনে লাইনের ওপর বসে পড়েন এবং অবিলম্বে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন।
  • জীবিকা হারানোর হাহাকার: ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, বছরের পর বছর ধরে এই স্টেশন চত্বরের ছোটখাটো ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই তাঁদের বহু গরিব পরিবারের সংসার চলে। কোনও আগাম স্থায়ী বিকল্প বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে মাঝরাতে দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা এখন সপরিবারে চরম সংকটে পড়লেন।

যদিও রেল প্রশাসনের সাফ দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই স্টেশনকে জটমুক্ত, পরিষ্কার ও সুরক্ষিত রাখতেই এই আইনি উচ্ছেদ চালানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের একাংশ পুনর্বাসনের দাবিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনও মল্লিকপুর স্টেশন চত্বরে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *