এবার ৩০০ কোটির মাটি চুরির মারাত্মক অভিযোগ! অভিষেকের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট ছবিসহ এফআইআর

এবার ৩০০ কোটির মাটি চুরির মারাত্মক অভিযোগ! অভিষেকের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট ছবিসহ এফআইআর

কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি এবং ত্রিপল চুরির পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠল প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সোমবার রাতে এই বিপুল অঙ্কের সরকারি সম্পদ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের কালীতলা আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করেছেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই এই মেগা কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হলো বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।

১৬৩ বিঘা জমির মাটি গায়েব, প্রমাণ হিসেবে স্যাটেলাইট চিত্র

থানায় দায়ের করা অভিযোগ পত্রে বিজেপি নেতা ববি দাবি করেছেন যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নদী ও লাগোয়া এলাকার বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে পাচার করা হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে পুলিশের কাছে জমা দেওয়া প্রধান তথ্য ও প্রমাণগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • অভিযুক্তদের তালিকা: এই মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের বর্তমান জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলসহ মোট ২৩ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • বিপুল পরিমাণ জমি: বিজেপি নেতার অভিযোগ, ধাপে ধাপে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৬৩ বিঘা জমির মাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কেটে চোরাপথে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ২০২২ এবং ২০২৩ সালে এই মাটি চুরির সিন্ডিকেট সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল।
  • স্যাটেলাইট ইমেজ পেশ: শুধুমাত্র মুখের কথায় নয়, এবার অকাট্য প্রমাণসহ ইডি ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতা। আশুলিয়া থানায় এফআইআর দায়ের করার সময় তিনি প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট এলাকার বেশ কিছু স্যাটেলাইট ছবি (Satellite Images) জমা দিয়েছেন, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কীভাবে সময়ের সাথে সাথে ধাপে ধাপে মাটি কেটে জমি ফাঁকা করা হয়েছে।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি

অভিযোগকারী অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ সালে যখন এই মাফিয়াবাজি ও মাটি কাটার তাণ্ডব চলছিল, তখন স্থানীয় স্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার কারণে এবং অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন সেই অভিযোগে বিন্দুমাত্র কান দেয়নি।

এই বেআইনি মাটি কাটার ফলে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে এখন চরম পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটাতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

২৫০ কোটির ত্রিপল চুরির পর এবার নতুন কেলেঙ্কারি

উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমফানের ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন এই বিজেপি নেতাই। ২০২০ সালের ভয়ানক আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় দুর্গত সাধারণ মানুষের জন্য আসা ত্রাণের ত্রিপল বেআইনিভাবে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল অভিষেকের বিরুদ্ধে। সেই সময় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ববি থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির এই নতুন মামলা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে এবং স্যাটেলাইট চিত্রগুলো যাচাই করতে আশুলিয়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *