‘ডিগ্রি দিয়ে চাকরি মিলবে না, ব্যবসা আর হাতের কাজে মন দাও!’ তরুণ প্রজন্মকে সাফ বার্তা দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার

নয়াদিল্লি: দেশের বর্তমান চাকরির বাজারের কঠিন বাস্তব তুলে ধরে ভারতীয় যুবসমাজ তথা ‘জেন-জি’ (Gen-Z)-কে বড় পরামর্শ দিলেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিশ্বায়নের যুগে সফটওয়্যার, কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা এমবিএ (MBA) ডিগ্রির যে রমরমা বাজার ছিল, সেই অধ্যায় এখন শেষ। ভবিষ্যৎ কিন্তু কারিগরি দক্ষতা ও ব্যবসার।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে তথাকথিত ডিগ্রির পেছনে না ছুটে এমন সব দক্ষতা অর্জন করতে বলেছেন, যা প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহজে কেড়ে নিতে পারবে না।
ডিগ্রি থাকলেও মিলছে না চাকরি, তৈরি হচ্ছে বেকারত্ব:
অনন্ত নাগেশ্বরন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে পড়াশোনা করছে। তারা স্নাতক পাস করেই উচ্চশিক্ষা বা ইউপিএসসি (UPSC)-র মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু এই যোগ্যতাগুলো আদেও স্থায়ী কর্মসংস্থান দিতে পারবে কি না, তা কেউ ভেবে দেখছে না। ফলে ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও দেশজুড়ে বেকারত্ব বাড়ছে।
তার চেয়ে প্লাম্বিং, ইলেকট্রিশিয়ান, কাঠমিস্ত্রি বা ওয়েল্ডিংয়ের মতো কারিগরি পেশার ওপর জোর দেওয়া উচিত। জার্মানি, জাপান বা চিনের মতো দেশে এই কাজগুলোকে অত্যন্ত সম্মান দেওয়া হলেও, ভারতে এখনও এগুলোকে নিচু চোখে দেখা হয়। এই মানসিকতা বদলানো জরুরি।
সোশ্যাল মিডিয়া দেখে নিজের বিচার করবেন না:
একটি ঘটনার উল্লেখ করে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানান, এক তরুণ শেফ (রাধুনি) আইটি বা অন্য কর্পোরেট সেক্টরে কর্মরত বন্ধুদের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে নিজেকে পিছিয়ে পড়া ভাবছিলেন। নাগেশ্বরন তাঁকে বোঝান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে রান্নার মতো হাতের কাজকে প্রতিস্থাপন করা আসাম্ভব। তাই আগামী দিনে কাউন্সেলিং, সেবা-শুশ্রূষা (Nursing) এবং আতিথেয়তা (Hospitality)-র মতো পেশাগুলোর গুরুত্ব ও চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়বে।
ধনী হওয়ার আগেই কি অসুস্থ হয়ে পড়ছে ভারত?
চাকরির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য নিয়েও বড়সড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন নাগেশ্বরন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত ধনী হওয়ার আগেই কি অসুস্থ হয়ে পড়ছে? ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-র রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব স্তরের মানুষের মধ্যেই এখন স্থূলতা (Obesity) বা মোটা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কায়িক শ্রম না করা, শরীরচর্চার অভাব এবং দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণেই যুবসমাজ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অর্থনৈতিক উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা— দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি শুধু প্রযুক্তি বা পরিকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না, তার জন্য নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও সমান জরুরি। তাই শুধু ডিগ্রির পেছনে না ছুটে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও এমন দক্ষতায় বিনিয়োগ করুন, যা প্রযুক্তির যুগেও টিকে থাকবে।