ইলেকট্রিক বিলের কোন্দলে স্কুলে তালা! তীব্র গরমে রাস্তায় বসেই ক্লাস করল খুদে পড়ুয়ারা

চুঁচুড়া: ইলেকট্রিক বিল কে দেবে? এই সামান্য বিষয় নিয়ে প্রাইমারি ও হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের ইগোর লড়াই। আর তার জেরে স্কুলের ক্লাসরুমে ঝুলল তালা! তীব্র গরমের মধ্যে বাধ্য হয়ে স্কুলের বাইরের চাতাল ও মাটিতে বসেই পড়াশোনা করতে হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কচিকাঁচাদের। হুগলির চুঁচুড়ার নামী স্কুল ‘বিনোদিনী বালিকা বিদ্যালয়’-এর এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
জানা গেছে, এই নামী স্কুলটিতে সকালে বসে প্রাইমারি সেকশন এবং দুপুরে বসে ডে সেকশনের হাইস্কুল। মঙ্গলবার সকালে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা এসে দেখেন, তাঁদের বসার ঘরটিতে তালা ঝুলছে। চাবি না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্কুলের সামনেই মাটিতে বসে ক্লাস শুরু করে দেয় খুদে পড়ুয়ারা।
ঝামেলার কেন্দ্রে ৪ হাজার টাকার বিল!
প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ মণ্ডল জানান, প্রতি মাসে ইলেকট্রিক বিল বাবদ ৪ হাজার টাকা তাঁরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই টাকা দেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষকের যুক্তি, “স্কুলে সোলার প্যানেল বসানো রয়েছে, তাও কেন প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা করে বিল দিতে হবে?” এই নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।
‘বাড়ি থেকে পাখা নিয়ে আসুন!’
অভিভাবকদের অভিযোগ, দুই কর্তৃপক্ষের এই নোংরা লড়াইয়ের শিকার হচ্ছে তাঁদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। তীব্র গরমে ফ্যান ছাড়া কীভাবে বাচ্চারা বাইরে বসে থাকবে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষককে মাইক হাতে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “কেউ পারলে বাড়ি থেকে পাখা নিয়ে আসুন, গরমে বাচ্চাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”
ঘটনাস্থলে বিধায়ক:
স্কুলের এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার খবর পেয়েই ছুটে আসেন চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ। তিনি প্রাইমারির প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সামনাসামনি এবং হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরে তিনি জানান, “এটা স্কুলের দুটি বিভাগের ভেতরের একটি ছোট সমস্যা। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত মিটিয়ে নেওয়া হবে। তবে এই ধরনের ঘটনার জেরে স্কুলের বদনাম হওয়া একেবারেই ঠিক নয়।” বিধায়কের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, শিক্ষাঙ্গনের এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওয়াকিবহাল মহল।