উন্মাদ ট্রাম্পের মন পড়তে ইরানের অভিনব চাল! শান্তি আলোচনায় কাজ দিল মনোবিজ্ঞানীদের দাওয়াই

উন্মাদ ট্রাম্পের মন পড়তে ইরানের অভিনব চাল! শান্তি আলোচনায় কাজ দিল মনোবিজ্ঞানীদের দাওয়াই

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাল রুখতে সম্পূর্ণ এক ভিন্নধর্মী কৌশল নিয়েছিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের রহস্যময় ও খামখেয়ালি আচরণ বিশ্লেষণ করতে দেশটির শীর্ষ স্তরের শান্তি আলোচনা দলে যুক্ত করা হয়েছিল অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীদের। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ম্যাড ম্যান থিওরি ও ইরানের পাল্টা কৌশল

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ‘ম্যাড ম্যান থিওরি’ বা উন্মাদের মতো আচরণের কৌশল অবলম্বন করছিলেন। শত্রুপক্ষকে সবসময় পরমাণু হামলার মতো চরম ভীতির মধ্যে রেখে কাবু করার এই ঐতিহাসিক মার্কিন কৌশলকে মোকাবিলা করা তেহরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মনস্তত্ত্ব বুঝতে এবং তাঁর পাঠানো বার্তাগুলোর সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ করতে গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের পর দুই জন জ্যেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানীকে নিজেদের আলোচনা দলে অন্তর্ভুক্ত করে ইরান। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টি ছিল একজন ক্ষমতাধর মানসিক রোগীর সাথে চিকিৎসকের মতো আচরণ করার মতো। কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছিল।

আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ও চুক্তির সম্ভাবনা

মনোবিজ্ঞানীদের এই অন্তর্ভুক্তি আলোচনা টেবিলে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে ইরান তাদের মৌখিক ও লিখিত বার্তার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। এর ফলে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং দুই দেশের মধ্যকার চরম উত্তেজনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে শুরু করে। এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই দুই পক্ষ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধংদেহী মনোভাব পরিহার করে শান্তির পথে হাঁটতে সম্মত হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *