একটা আসল তৃণমূল আর অন্যটা বিশ্বাসঘাতকদের দল, বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ সৌগত রায়ের!

একটা আসল তৃণমূল আর অন্যটা বিশ্বাসঘাতকদের দল, বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ সৌগত রায়ের!

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) চলমান নজিরবিহীন সংকটের মাঝে এবার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করলেন প্রবীণ দলীয় সাংসদ সৌগত রায়। লোকসভার ২০ জন দলত্যাগী সাংসদকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতকদের দল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর তীব্র অভিযোগ, এই বিদ্রোহী সাংসদেরা আসলে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সুনির্দিষ্ট নির্দেশেই কাজ করছেন।

‘আসল তৃণমূল’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক দল’-এর ফারাক বোঝালেন সৌগত

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিদ্রোহীদের একহাত নেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে এবং দেশের সংসদে এখন দুটি স্পষ্ট পক্ষ তৈরি হয়ে গিয়েছে।

সৌগত রায়ের বক্তব্যের মূল খতিয়ান:

  • তৃণমূল কংগ্রেস: এই দলের একমাত্র নেত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির নির্বাচনী প্রতীক বাংলার মানুষের অতি পরিচিত ও প্রিয় ‘একজোড়া ফুল’ এবং এই দল সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার।
  • বিশ্বাসঘাতকদের দল: এই গোষ্ঠীর আসল নিয়ন্ত্রক হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এদের নির্বাচনী প্রতীক হলো কলমের নিব (Pen Nib)। সৌগত রায় মূলত ত্রিপুরা-ভিত্তিক আঞ্চলিক দল ন্যাশনালিস্ট Citizenস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর (NCPI) প্রতীকের কথাই উল্লেখ করছিলেন, যার ছাতার তলায় বিদ্রোহী সাংসদেরা আশ্রয় নিয়েছেন।

আসল তৃণমূল কে তা আদালত ঠিক করবে, দাবি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

canনদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা প্রবীণ লোকসভা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পিঠ বাঁচানোর লড়াইয়ে পালটা আইনি হুঙ্কার দিয়েছেন। এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মেলানোর পর এবার তাঁরা সরাসরি মূল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনি চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান:

“আসল তৃণমূল কংগ্রেস আসলে কোন গোষ্ঠী, তা আগামী দিনে দেশের আদালতই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে। আমরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে আমাদের সমস্ত আইনি নথি ও দাবিদাওয়া তাঁর কাছে পেশ করেছি।”

জুলাইয়ের বাদল অধিবেশনের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার

তৃণমূল কংগ্রেসের এই নজিরবিহীন ভাঙন এবং দলত্যাগী গোষ্ঠীকে লোকসভায় পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে স্পিকারের কার্যালয়ে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দল— উভয় পক্ষেরই বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শুনবেন।

স্পিকারের সচিবালয় থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে লিখিত মতামত জানতে চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ইমেল পাঠানো হয়েছে। সাধারণত জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সংসদের বর্ষাকালীন বা বাদল অধিবেশন শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের খবর, স্পিকার ওম বিড়লা প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পরামর্শ নেওয়ার পর, সংসদের এই আসন্ন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই পুরো বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তি করতে চান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *