নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর! শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের হাইকোর্টে মামলা মমতার

নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর! শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের হাইকোর্টে মামলা মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে ফের এক নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের অধ্যায় শুরু হলো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই কেন্দ্রে জয়কে অবৈধ দাবি করে একটি নির্বাচনী আবেদন (Election Petition) দাখিল করেছেন তিনি।

নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে জোড়া আইনি লড়াই

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর আদালতের দরজায় কড়া নাড়লেন তৃণমূল নেত্রী।

  • নন্দীগ্রাম ২০২১: গত ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন, যা আজও আদালতে বিচারাধীন।
  • ভবানীপুর ২০২৬: এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের একদা ‘নিরাপদ’ আসন হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই পরাজয়কেও আইনি চ্যালেঞ্জ জানালেন তিনি।

সমস্ত নির্বাচনী নথি সংরক্ষণের কড়া দাবি

তৃণমূল সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে করা এই আবেদনটি নিশ্চিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিতে গিয়েছিলেন। তাঁর দায়ের করা এই নতুন আবেদনে ভোট গণনায় একাধিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রতিকার চাওয়ার পাশাপাশি, ভবানীপুর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণনা সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি নথি, দলিল ও প্রমাণ যাতে অবিলম্বে সুরক্ষিত এবং সংরক্ষণ করা হয়, সেই বিষয়ে আদালতের কাছে কড়া নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

৪ মে ‘দিদি আউট’ স্লোগান এবং বাংলায় নতুন যুগের সূচনা

একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনিই এখন রাজদণ্ডের অধিকারী। গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া ‘৪ মে, দিদি আউট’ স্লোগানটি বাস্তবে রূপ পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে পরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে political ভাবে পরাস্ত করে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর সেই বিজয়কে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *