“খান স্যার শিক্ষক নন, ১ নম্বরের প্রতারক!” পাকিস্তান ও নেপাল যোগের মারাত্মক দাবি তুলে সরব বিজেপি বিধায়ক

কোচিং জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ খান স্যারের (Khan Sir) বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি বিধায়ক নীরজ কুমার বাবলু। খান স্যারকে সরাসরি ‘১ নম্বরের প্রতারক’ ও ‘ভণ্ড’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সাথে পাকিস্তান ও নেপালের গোপন যোগসূত্র রয়েছে বলে মারাত্মক দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার সাহারসায় এক শোকগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই বিজেপি নেতা।
উত্তর প্রদেশ থেকে বিহারে এসেছেন প্রতারণা করতে, তোপ নীরজ বাবলুর
বিজেপি বিধায়ক নীরজ বাবলু স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, খান স্যার কোনও প্রকৃত শিক্ষকই নন। তাঁর দাবি, উত্তর প্রদেশ থেকে বিহারে তিনি এসেছেন কেবলই সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের সাথে জালিয়াতি করার জন্য। এমনকি খান স্যারের নিজের পরিবারের লোকেরাও তাঁকে একজন প্রতারক হিসেবেই চেনেন বলে দাবি তুলেছেন বিধায়ক।
নীরজ বাবলুর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলি:
- নাম বিতর্ক ও ভণ্ডামি: খান স্যারের আসল নাম নিয়ে চলা বিতর্ক উসকে দিয়ে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “তিনি ফয়জল হোন বা আফজল, কেউই সঠিক লোক নন। তিনি এক নম্বর ভণ্ড। স্রেফ দু-চারটে মুখরোচক কথা বলে তিনি সাধারণ মানুষ এবং সরল ছাত্রছাত্রীদের নিজের প্রতি প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করেন।”
- শিক্ষার্থীদের সতর্কবার্তা: দেশের যুবসমাজ ও ছাত্র সমাজকে এই ধরণের ‘ভণ্ড শিক্ষকদের’ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার জন্য কড়া পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
- মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত: খান স্যারের এই সমস্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে তিনি খুব শীঘ্রই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সশরীরে দেখা করবেন এবং তাঁকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাধারণ মৃত্যু নয় এটি একটি বড় হত্যাকাণ্ড এবং গভীর ষড়যন্ত্র
আসলে মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়ক নীরজ বাবলু সাহারসায় পৌঁছেছিলেন ‘বিন্দু কোচিং’-এর পরিচালক রোশন আনন্দের ভাই প্রিন্সের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে। এই কঠিন সময়ে শোকগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি। তবে প্রিন্সের এই মৃত্যুকে কোনও সাধারণ ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ বিজেপি বিধায়ক।
রোশন আনন্দের প্রশংসা করে নীরজ বাবলু বলেন যে, তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন আদর্শ শিক্ষক যিনি নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা দান করেন। কিন্তু তাঁর ভাই প্রিন্সের এই অকাল মৃত্যু আসলে একটি সুপরিকল্পিত ‘হত্যাকাণ্ড’ এবং এর পেছনে একটি বৃহত্তর বড় ষড়যুক্তি কাজ করছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও, ঘটনার মূল উৎস জানতে আরও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার আবহে খান স্যারের বিরুদ্ধে বিজেপি বিধায়কের এমন ক্ষোভ প্রকাশ দেশীয় রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।